দৈনন্দিন জীবনে পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো অজু। নামাজ আদায় ও ইবাদতের জন্য অজু করা আবশ্যক হলেও অনেক সময় অজুর মাঝখানে পানি শেষ হয়ে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে বিরতি ঘটতে পারে।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী অজু করার সময় স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার আগেই অপর অঙ্গ ধৌত করা পছন্দনীয়। অর্থাৎ হাত ধৌত করার পর এমন দীর্ঘ সময় দেরি না করা যাতে মুখমণ্ডল শুকিয়ে যায়।
তবে অনিবার্য কারণে অজুর মাঝখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বা তার বেশি সময় পার হয়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথমত, যদি এই অপেক্ষার সময়ে অজু ভঙ্গের কোনো কারণ (নাওয়াকিদুল অজু) সংঘটিত না হয়, তবে আগের ধোয়া অঙ্গগুলো বাতিল হবে না।
এমতাবস্থায় নতুন করে অজু শুরু না করে যেখানে অজু থেমে ছিল, যেমন মুখ বা হাত ধোয়ার পর থেকে বাকি অংশগুলো ধৌত করে অজু সম্পন্ন করা যাবে। এতে অজু পুরোপুরি সম্পূর্ণ হয়ে যায় এবং কোনো সমস্যা থাকে না।
দ্বিতীয়ত, অধিক সময় পার হয়ে যাওয়ায় নতুন করে শুরু থেকে অজু করাটাই হলো অধিকতর উত্তম ও পরিচ্ছন্নতার দিক। তবে কেউ যদি আগের রেখে যাওয়া অংশ থেকে অজু শেষ করেন, তাহলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে তা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
ইসলাম অত্যন্ত সহজ ও যৌক্তিক একটি জীবনবিধান। পানির সংকট বা অনিবার্য কারণে অজুর মাঝে বিরতি ঘটলে শরিয়তের এই সহজ সমাধান আমাদের ইবাদতকে আরও সাবলীল করে তোলে। অজু ভঙ্গের কারণ না ঘটলে মাঝখান থেকেই অজু সম্পন্ন করা বৈধ, তবে দীর্ঘ বিরতিতে নতুন করে অজু করাই অধিক সওয়াবের কাজ।


























