ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কড়াই কিচেন জায়গা করে নিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের বছরের সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় Logo ২০০ কোটির সিনেমার সাফল্যে আলোচনায় মামিথা বাইজু Logo কাউন্টিতে খালেদের আগুনঝরা বোলিং, একাই নিলেন পাঁচ উইকেট Logo রিংকু সিংয়ের বিয়ে যে এমপির সঙ্গে, কে এই প্রিয়া সরোজ Logo ন্যু ক্যাম্পে ফিরছে ইউরোপের মহারণ, তিন দশক পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল Logo এসআরবি বাংলাদেশ নামে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী কার্যক্রম শুরু করেছে Logo সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬৭, বাড়তে পারে প্রাণহানি Logo আর্জেন্টিনার নতুন স্কোয়াডে চমক, ফিরলেন মেসি! Logo মেট্রোরেলের ৩ রুটে বড় উদ্যোগ, অনুমোদন ১২ প্রকল্পের Logo ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে পাকিস্তানি জাহাজের ধাক্কা, কড়া প্রতিবাদ

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬৭, বাড়তে পারে প্রাণহানি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:১৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১১

সুদানের পশ্চিম কর্ডোফানে সোনার খনি ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। | ছবি: সংগৃহীত

সোনার খনি ধসে সুদানের পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যে অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল-জারা সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক। আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-নুহুদের কাছে অবস্থিত ওই খনিতে ধসের পর এখনো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। খনি ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আহত বা আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ওই এলাকায় খনি শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ছিল না। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খননকাজ পরিচালনার কারণে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন সরাসরি বিপদের মুখে পড়েছে। সংগঠনটি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

খনি দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণাধীন কর্তৃপক্ষকে বেসামরিক নাগরিক ও খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া খনিতে কাজ করানো হলে সামান্য দুর্ঘটনাও বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

সুদানে সোনার খনি ধসের মতো দুর্ঘটনা দেশটির ক্ষুদ্র খনি শিল্পের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। দেশজুড়ে ক্ষুদ্র পরিসরের খনি শিল্পে ২০ লাখের বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার এই ধরনের খনন পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কারণ বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এই কাজের ওপর নির্ভরশীল। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

আল-জারা সোনার খনির দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ এবং খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, সেসব বিষয়ও সামনে আসছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কড়াই কিচেন জায়গা করে নিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের বছরের সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায়

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬৭, বাড়তে পারে প্রাণহানি

Update Time : ০৭:১৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনার খনি ধসে সুদানের পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যে অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আল-জারা সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক। আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-নুহুদের কাছে অবস্থিত ওই খনিতে ধসের পর এখনো উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। খনি ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি আহত বা আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ‘রাদ-১’ উন্মোচনে প্রস্তুত ইরান, কী বদলাবে এই স্যাটেলাইট?

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ওই এলাকায় খনি শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম ছিল না। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খননকাজ পরিচালনার কারণে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জীবন সরাসরি বিপদের মুখে পড়েছে। সংগঠনটি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

খনি দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণাধীন কর্তৃপক্ষকে বেসামরিক নাগরিক ও খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত খনন কার্যক্রম বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া খনিতে কাজ করানো হলে সামান্য দুর্ঘটনাও বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন  রাশিয়ায় কর্মী পাঠানো বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ

সুদানে সোনার খনি ধসের মতো দুর্ঘটনা দেশটির ক্ষুদ্র খনি শিল্পের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। দেশজুড়ে ক্ষুদ্র পরিসরের খনি শিল্পে ২০ লাখের বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার এই ধরনের খনন পুরোপুরি নিষিদ্ধ না করে খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কারণ বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা এই কাজের ওপর নির্ভরশীল। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন  রামমন্দিরে অর্থ কেলেঙ্কারি, মোদি-যোগী দ্বন্দ্বে নতুন প্রশ্ন

আল-জারা সোনার খনির দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ এবং খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, সেসব বিষয়ও সামনে আসছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর দুর্ঘটনার পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।