মেসি—ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় নামটি নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের পুরস্কার ঘিরে যখন কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল ও হ্যারি কেইনের মতো তারকাদের নিয়ে বেশি আলোচনা, তখন আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে সামনে এনেছেন দিয়েগো সিমিওনে। আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচের কাছে এ বছরের ব্যালন ডি’অরের জন্য মেসিই পছন্দ।
মেসিকে বেছে নেওয়ার কারণও পরিষ্কার করে বলেছেন সিমিওনে। আতলেতিকোর সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে যখন ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য বিজয়ী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তখন কোনো দ্বিধা না করে মেসির নাম বলেন তিনি। তাঁর যুক্তির কেন্দ্রে ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সী মেসির পারফরম্যান্স। সিমিওনের ভাষায়, মেসির বয়স বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্সই তাঁকে আলাদা করে দেয়।
মেসিকে ঘিরে সিমিওনের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এমবাপ্পে ও ইয়ামালকে নিয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে। ইয়ামাল বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জেতার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও দারুণ মৌসুম কাটিয়েছেন। অন্যদিকে এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না জিতলেও গোলের হিসাবে ছিলেন দুর্দান্ত। ২০২৫–২৬ মৌসুমে লা লিগায় ২৫ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫ গোল করেছেন ফরাসি তারকা।
এই জায়গাতেই মেসিকে ঘিরে সিমিওনের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা আলাদা। তাঁর কাছে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে মেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ১–০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হলেও টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স তাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
অন্যদিকে ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি, এমবাপ্পে, ইয়ামাল ও কেইন—সবাই আছেন। কেইনও দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন এবং বায়ার্ন মিউনিখকে ট্রেবল জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। মেসিও ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনার হয়ে দুর্দান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাই সিমিওনের মন্তব্য মূলত তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ, পুরস্কারের ফলাফল নয়।
মেসির পক্ষে সিমিওনের এই সমর্থন অবশ্য ব্যালন ডি’অরের ভোটে সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলবে না। পুরস্কারটির বিজয়ী নির্ধারণ করেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে হবে এবারের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার অনুষ্ঠান। তার আগে এমবাপ্পে, ইয়ামাল, কেইন, মেসি ও অন্য প্রার্থীদের নিয়ে বিতর্ক আরও জমবে। আর সেই আলোচনায় সিমিওনের একটি উত্তর আপাতত বেশ পরিষ্কার—তাঁর ভোট মেসির পক্ষেই।



























