ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তা, যা বললেন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

এআই ব্যবহার নিয়ে সতর্কতার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

এআই ব্যবহার করে কাল্পনিক বিষয় তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর দাবি, একটি পক্ষ এ ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এসব করে কোনো লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এআই প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

এআই নিয়ে সতর্কতার পাশাপাশি প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন এহছানুল হক মিলন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি ন্যানোটেকনোলজি ও রোবোটিকসের মতো প্রযুক্তি এখন শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তাই শুধু প্রচলিত পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কথা তিনি আগেও বলেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বুধবার বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশ গঠনে নিজেদের প্রস্তুত করার কথাও বলেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।

কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের প্রসঙ্গও আসে অনুষ্ঠানে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা নিতে তিনি সম্প্রতি চীন সফর করেছেন। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে যে ধরনের যোগাযোগ রয়েছে, সেটিকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; প্রযুক্তি, ভাষা ও উদ্ভাবনী কাজেও দক্ষ হতে হবে। চীনের শিক্ষা ও শিল্পের সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।

বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের অতীত নিয়েও কথা বলেন এহছানুল হক মিলন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শিক্ষার প্রসারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি। নারীশিক্ষার উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক সময়েও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এআই, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জবি নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন। অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানে একদিকে এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তা এসেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তা, যা বললেন

Update Time : ১০:৪৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই ব্যবহার করে কাল্পনিক বিষয় তৈরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তাঁর দাবি, একটি পক্ষ এ ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এসব করে কোনো লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এআই প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। একই অনুষ্ঠানে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

এআই নিয়ে সতর্কতার পাশাপাশি প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন এহছানুল হক মিলন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ব দ্রুত বদলাচ্ছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি ন্যানোটেকনোলজি ও রোবোটিকসের মতো প্রযুক্তি এখন শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তাই শুধু প্রচলিত পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কথা তিনি আগেও বলেছেন।

আরও পড়ুন  আজ জাতীয় বই পড়া দিবস

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বুধবার বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দেশ গঠনে নিজেদের প্রস্তুত করার কথাও বলেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।

কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের প্রসঙ্গও আসে অনুষ্ঠানে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা নিতে তিনি সম্প্রতি চীন সফর করেছেন। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে যে ধরনের যোগাযোগ রয়েছে, সেটিকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; প্রযুক্তি, ভাষা ও উদ্ভাবনী কাজেও দক্ষ হতে হবে। চীনের শিক্ষা ও শিল্পের সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন  মেসির সামনে ডাবল মুকুট, ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে এই মহাতারকা

বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের অতীত নিয়েও কথা বলেন এহছানুল হক মিলন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শিক্ষার প্রসারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি। নারীশিক্ষার উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক সময়েও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এআই, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  আবরার ফাহাদের নামে নতুন হল নির্মাণের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

জবি নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন। অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানে একদিকে এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তা এসেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।