আব্বাসের ভিসা নিষেধাজ্ঞা দ্বিতীয় বছরের মতো বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবারও নিউইয়র্কে গিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কয়েকজন কর্মকর্তার ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণাটি এসেছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পিএ ও পিএলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা কিছু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার করেনি এবং ওয়াশিংটনের ভাষায় শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সরাসরি আলোচনার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়া। এসব কারণ দেখিয়েই কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সবাই যে জাতিসংঘের কার্যক্রম থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন, বিষয়টি এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জাতিসংঘে পিএলও মিশনের নিয়মিত কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ছাড় বহাল থাকবে। ফলে নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকা সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক ও কর্মীরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি মূলত নির্দিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে।
এবারের অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাসের বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ ছিল। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। চলতি মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত বছরও আব্বাস ও কয়েকজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আব্বাসকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়। এবারও একই ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘের কিছু মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আগের নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে আসা প্রতিনিধিদের নিউইয়র্কে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তাঁর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একই ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই। এই পার্থক্য নিয়ে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাসহ কিছু সমালোচক বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তার সিদ্ধান্তের পক্ষে পিএ ও পিএলওর কর্মকাণ্ড এবং সংস্কারের ঘাটতির বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফলে জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে আব্বাসের ভিসা নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




























