আসিয়ান কাপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের নিয়ে ভয় নয়, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে চান বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। জাকার্তায় দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে টুর্নামেন্ট নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন তিনি। হামজার লক্ষ্য, প্রতিটি ম্যাচ থেকে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পাশাপাশি যতটা সম্ভব পয়েন্ট সংগ্রহ করা।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপ খেলতে বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ দল। সোমবার দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। তাঁর যোগদানে দলের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হামজা বলেন, এই টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে তারা রোমাঞ্চিত। একই সঙ্গে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। দলের লক্ষ্য যতটা সম্ভব বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করা।
হামজা বলেন, ‘আমরা এখানে কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য কতটুকু।’ তাঁর মতে, এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের জন্য শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেদের উন্নতি করতে চান তাঁরা। পাশাপাশি দেশের মানুষকে গর্বিত করার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আগামী শুক্রবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন হামজা। তাঁর মতে, মালয়েশিয়ার দলে ভালো মানের খেলোয়াড় রয়েছেন এবং তাদের কোচও বেশ দক্ষ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দলটি ভালো অবস্থানে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ ২৮ সেপ্টেম্বর। সেই ম্যাচে হামজার মুখোমুখি হতে পারেন ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের মিলওয়ালের ডিফেন্ডার এলকান ব্যাগট। একই লিগে খেলার কারণে ব্যাগটকে চেনেন হামজা। বিমানের ফ্লাইটেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি এই মিডফিল্ডার।
ব্যাগটকে তরুণ ও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেছেন হামজা। মিলওয়ালকে চমৎকার দল উল্লেখ করে তাঁর বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ফলে জাকার্তায় বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচে দুই ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলোয়াড়ের লড়াইও বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
টুর্নামেন্টের মূল ভেন্যু গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়াম এখনো দেখা হয়নি বাংলাদেশ দলের। আগামীকাল স্টেডিয়াম পরিদর্শনের কথা রয়েছে। জাকার্তায় দলের থাকা ও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট হামজা। হোটেল এবং স্থানীয় পরিবেশ নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা অর্জনই বড় লক্ষ্য দলের। আর হামজার বার্তায় স্পষ্ট, ভয় নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়েই আসিয়ান কাপের মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরতে চায় বাংলাদেশ।


























