ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে Logo থানার দরজা ভেঙে পালাল কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য Logo নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে Logo গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের Logo শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই, ছয় দশকের সাহিত্যজীবনের অবসান Logo ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৫১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

ঘুষের টাকা উদ্ধারের পর দুদকের অভিযান। | ছবি: সংগৃহীত

সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দুই কর্মচারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তাঁরা দলিল নিবন্ধনের সময় সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে ঘুষ নেওয়ার কথা বলেন। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিষয়টি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত এক আইনজীবীর অভিযোগ থেকে। তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে গেলে দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকার পরও নিবন্ধন আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে ওই আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ১০৬ নম্বরে বিষয়টি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। অভিযান চলাকালে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারুক ইসলাম দাবি করেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টাকাগুলো উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তাঁর কাছে আসছিল। এর মধ্যেই দুদকের কর্মকর্তারা কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে টাকা উদ্ধার করেন এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। এ ঘটনায় পরে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে ঘুষের অর্থ কীভাবে ভাগ বা লেনদেনের কথা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে রূপণ দাশ তাঁর জবানবন্দিতে জানান, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে অভিযান চালানো হয়, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এর বাইরে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা ছিল। দলিলের কোনো ত্রুটি না থাকার পরও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়। আইনজীবী ঘুষের টাকা দিতে গেলে দুদকের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দুই লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আল আমিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই কর্মচারী ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে লেনদেনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসু বলেছেন, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকেই পরে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এখন তদন্তে পাওয়া তথ্য, আদালতের জবানবন্দি এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে যাবে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ

সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি

Update Time : ০৬:৫১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দুই কর্মচারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তাঁরা দলিল নিবন্ধনের সময় সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে ঘুষ নেওয়ার কথা বলেন। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিষয়টি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত এক আইনজীবীর অভিযোগ থেকে। তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে গেলে দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকার পরও নিবন্ধন আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে ওই আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ১০৬ নম্বরে বিষয়টি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। অভিযান চলাকালে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন  উত্তরায় স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার তরুণ রিমান্ডে

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফারুক ইসলাম দাবি করেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টাকাগুলো উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তাঁর কাছে আসছিল। এর মধ্যেই দুদকের কর্মকর্তারা কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে টাকা উদ্ধার করেন এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। এ ঘটনায় পরে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে ঘুষের অর্থ কীভাবে ভাগ বা লেনদেনের কথা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে রূপণ দাশ তাঁর জবানবন্দিতে জানান, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে অভিযান চালানো হয়, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এর বাইরে দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা ছিল। দলিলের কোনো ত্রুটি না থাকার পরও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে বড় সাজ্জাদের সহযোগী ‘গলাকাটা বাচা’ গ্রেফতার

দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়। আইনজীবী ঘুষের টাকা দিতে গেলে দুদকের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দুই লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আল আমিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই কর্মচারী ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে লেনদেনের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  ছাগলনাইয়ায় থামছেই না ট্রান্সফরমার চুরি, সক্রিয় চোরচক্র

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসু বলেছেন, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকেই পরে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এখন তদন্তে পাওয়া তথ্য, আদালতের জবানবন্দি এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে যাবে। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।