সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি করে দেশের বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বুধবার থেকে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারে ৪ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ১৯৯ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে ৯৭৫ টাকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।
বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কারণেই দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও সেই প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি জানান, নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে কঠোর নজরদারি চালানো হবে যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ তেল বিক্রি করতে না পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়। অতীতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে দ্রুত তার প্রতিফলন দেখা যায়নি—এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, এবার থেকে সেই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উৎস পর্যায়ে দাম কমলেই দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি কমিয়ে আনা হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে স্বীকার করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেশিরভাগ মানুষের আয় নির্দিষ্ট। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে তাদের ব্যয়ও বেড়ে যায়। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ বাংলাদেশে সয়াবিন উৎপাদন হয় না, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তাই বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তন দেশের বাজারেও প্রভাব ফেলে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভোক্তারা চাইলে বিকল্প হিসেবে পাম তেল বা রাইস ব্র্যান তেল ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে খোলা পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং প্রতি লিটার ১৬৬ টাকা নির্ধারিত আছে। ফলে যারা কম দামে ভোজ্যতেল কিনতে চান, তারা বিকল্প তেলের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এতে বাজারে কিছুটা ভারসাম্য আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নতুন দাম বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে খোলা পামতেল ও সুপার পামতেলের দাম বাড়ানো হয়নি। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম আগে থেকেই ১৮২ থেকে ১৯৩ টাকার মধ্যে ছিল। ফলে সরকারের নতুন নির্ধারিত দাম বাজারদরের তুলনায় কিছুটা কম।
সব মিলিয়ে, সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও সরকার বলছে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও দ্রুত সমন্বয় করা হবে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য কমলে দেশের বাজারে সেই সুবিধা কত দ্রুত ভোক্তারা পান। কারণ ভোক্তাদের প্রত্যাশা, শুধু দাম বাড়ানোর সময় নয়, কমানোর সময়ও যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।




























