হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে সংক্রমণ বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের গবেষণাভিত্তিক ওয়েবসাইট Science জানিয়েছে, টিকা সরবরাহে বিলম্ব ও কর্মসূচির ব্যাঘাতের কারণে দেশে নতুন করে হাম ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই শিশু। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হলে এই ধরনের সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে অনেক শিশুকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ জটিল উপসর্গে ভুগছিল। বেড সংকটের কারণে কিছু রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপীও হাম রোগ আবার বাড়তে শুরু করেছে। আগে যেসব দেশ হামমুক্ত হিসেবে পরিচিত ছিল, সেসব দেশের মধ্যেও নতুন করে সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর এক হাজার সাতশোর বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দুই দশক আগের তুলনায় অনেক বেশি। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে টিকা কেনা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য টিকার মজুদ কমে যায় এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় সংক্রমণ শুরু হয়ে তা দ্রুত দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেছেন, টিকা কেনার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তাঁর মতে, সরকারি ক্রয়নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়ম মেনেই টিকা কেনা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে কিছু তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

























