ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঢাকায় কনসার্টে সঞ্জয়-প্রীতম, ফাইনালের আগে বড় চমক Logo একজন পুরুষের যে গুণে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হন জেনিফার লোপেজ Logo সালমান খান মামলা: বিস্ফোরক টিজারে বড় চমক, কেন গেলেন আদালতে? Logo ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী তালিকা প্রকাশ, সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী কারা! Logo মিরসরাইয়ে চীনের ৩৬৬ কোটি টাকার বস্ত্র কারখানা, হবে ৫৮০ জনের কর্মসংস্থান Logo চাকরি–সংস্কৃতি বদলাচ্ছে: কর্মীর আস্থা ও দক্ষতায় গড়বে সফল প্রতিষ্ঠান Logo করমুক্ত আয় বাড়লেও বাড়ছে করের হার, উদ্বেগে চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত Logo মুদ্রা বিনিময় হার: দেখুন সর্বশেষ ডলার, ইউরো ও রুপির নতুন দর Logo ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড Logo মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে

আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতন

আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, তার চুল কেটে দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ মীম আক্তার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, মীম আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার দিনু মিয়ার বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হতো বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ব্যবসার কথা বলে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী দিনু মিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে না পারায় মীম আক্তারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

মীম আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দিনু মিয়া তাকে মারধর শুরু করেন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গাল ও হাতে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এতেই শেষ নয়, নির্যাতনের এক পর্যায়ে শাশুড়ির সহযোগিতায় তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মীম আক্তার। এমন অমানবিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করেন।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই মীমকে নানা অজুহাতে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের টাকা না পেয়ে এই নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়ছিল। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত স্বামী দিনু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে আইন থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের ঘটনা এখনো ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় কনসার্টে সঞ্জয়-প্রীতম, ফাইনালের আগে বড় চমক

আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতন

Update Time : ১০:২০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, তার চুল কেটে দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ মীম আক্তার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, মীম আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার দিনু মিয়ার বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হতো বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ব্যবসার কথা বলে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী দিনু মিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে না পারায় মীম আক্তারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

আরও পড়ুন  দেশে ঈদুল আজহা কবে জানা যাবে আগামীকাল সন্ধ্যায়

মীম আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দিনু মিয়া তাকে মারধর শুরু করেন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গাল ও হাতে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এতেই শেষ নয়, নির্যাতনের এক পর্যায়ে শাশুড়ির সহযোগিতায় তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মীম আক্তার। এমন অমানবিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন  আজহারীর ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে ওষুধ বিক্রি, ২ জন রিমান্ডে

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই মীমকে নানা অজুহাতে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের টাকা না পেয়ে এই নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়ছিল। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত স্বামী দিনু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন  হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনে মুক্ত শিরীন শারমিন

নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে আইন থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের ঘটনা এখনো ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।