লিওনেল মেসিকে ঘিরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় তিনি দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে যোগ দেননি। ফলে বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার দুটি প্রীতি ম্যাচে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে নিজেদের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি সেখানে নিবিড় অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে। তবে দলের সবচেয়ে বড় তারকা মেসিকে এখনো আলাদা কর্মসূচির মধ্যে রাখা হয়েছে।
গত ২৪ মে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে গিয়ে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান মেসি। ম্যাচ চলাকালে অস্বস্তি অনুভব করার পর তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। পরে জানা যায়, চোটটি গুরুতর না হলেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে।
এই কারণে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মেডিকেল বিভাগ মেসির জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। দলের ফিজিওথেরাপিস্ট লুইস গার্সিয়া এবং ফিটনেস কোচ লুইস মার্টিনের তত্ত্বাবধানে চলছে তার পুনর্বাসন কার্যক্রম। তারা প্রতিদিন তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন।
বর্তমানে মেসিকে মাঠে হালকা দৌড়, স্ট্রেচিং এবং নিয়ন্ত্রিত শারীরিক ব্যায়াম করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি নিয়মিত অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন, তবে দলের বাকিদের সঙ্গে পূর্ণ গতিতে খেলছেন না। চিকিৎসকরা ধীরে ধীরে তাকে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
মেসির অনুশীলনের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে বেশ স্বাভাবিক ও ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেছে। তবুও আর্জেন্টিনা দলের কোচিং স্টাফ কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নন।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে মেসির শতভাগ ফিট থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর্জেন্টিনা দল জানে, একটি প্রীতি ম্যাচের চেয়ে বিশ্বকাপ অনেক বেশি মূল্যবান। তাই তাড়াহুড়ো করে তাকে মাঠে নামানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও মেসির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যেসব খেলোয়াড় ছোটখাটো চোট বা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, তারা ফিজিওথেরাপি দলের অধীনে কাজ করছেন। তাদের উন্নতির ধারা সন্তোষজনক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চোটগ্রস্ত ফুটবলারদের নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রতিদিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উন্নতির অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মেডিকেল টিম তাদের পুনর্বাসন নিয়ে আশাবাদী।
মেসির পুনর্বাসন কার্যক্রমে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কারণ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পুরোপুরি না সারলে পুনরায় সমস্যার ঝুঁকি থাকে। বিশ্বকাপের আগে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা কেউই চাইছে না।
আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ মনে করছে, মেসির ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার চোট কাটিয়ে সফলভাবে ফিরেছেন। এবারও একই পথ অনুসরণ করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচগুলোতে কোচিং স্টাফ বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করে দেখতে চায়। পাশাপাশি স্কোয়াডের অন্যান্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেসও মূল্যায়ন করা হবে।
মেসি যদি পুরোপুরি সুস্থ না হন, তাহলে তাকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে। কারণ প্রস্তুতি ম্যাচে না খেললেও বিশ্বকাপের জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে থাকবেন। তার সুস্থতাই এখন দলের প্রধান অগ্রাধিকার।
দলের ভেতরেও মেসিকে নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। সতীর্থরা বিশ্বাস করেন, তিনি খুব দ্রুতই পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন। অনুশীলনে তার উপস্থিতি দলকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাচ্ছে।
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যেও আশাবাদ রয়েছে। তারা মনে করছেন, মেসি সময়মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং বিশ্বকাপে আবারও দলকে নেতৃত্ব দেবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে শুভকামনা জানিয়ে অসংখ্য বার্তা দেখা যাচ্ছে।
কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর এবারও আর্জেন্টিনা অন্যতম ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। সেই যাত্রায় মেসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তার ফিটনেস নিয়ে প্রতিটি আপডেটই সমর্থকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা নিজের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি জানেন, সামনে অপেক্ষা করছে আরও একটি বড় মঞ্চ। সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে নিজেকে প্রস্তুত করছেন।
সবশেষ খবর অনুযায়ী, মেসির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি ইতিবাচকভাবেই পুনর্বাসন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রীতি ম্যাচে তিনি খেলবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আর্জেন্টিনা শিবির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
বিশ্বকাপের আগে মেসির সুস্থ হয়ে ওঠা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্যই সুখবর হবে। কারণ বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থক আবারও তাকে বড় মঞ্চে দেখতে অপেক্ষা করছেন। এখন সবার নজর তার দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার দিকে।
























