ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ভারতে প্রথম ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:১৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৩

ভারতে প্রথমবারের মতো অনুমোদন পাওয়া ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি ‘কিউডেঙ্গা’ টিকাটি বাজারজাত করার অনুমতি দিয়েছে। ফলে এটি ভারতের ইতিহাসে অনুমোদন পাওয়া প্রথম ডেঙ্গু টিকায় পরিণত হলো।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তি এই টিকা নিতে পারবেন। তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে হবে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।

তাকেদা জানিয়েছে, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা বিবেচনা না করেই এই টিকা নেওয়া যাবে। এমনকি টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণের ইতিহাস জানতে কোনো প্রি-ভ্যাকসিনেশন স্ক্রিনিং বা পরীক্ষারও প্রয়োজন হবে না।

ভারতে ডেঙ্গু বর্তমানে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিশ্বে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক মডেলেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে কার্যকর টিকার অনুমোদন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিউডেঙ্গার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন কর্মসূচির তথ্যের ভিত্তিতে। ফেজ-১, ফেজ-২ ও ফেজ-৩ মিলিয়ে মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ ও ডেঙ্গু-অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।

ফেজ-৩ ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী ছিলেন। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ

এ ছাড়া ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ। সাড়ে চার বছরের ফলোআপে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। সাত বছরের পর্যবেক্ষণেও চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

ভারতে অনুমোদনের ক্ষেত্রে দেশটির ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পরিচালিত ফেজ-৩ ট্রায়ালের ফলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সী মানুষের জন্য টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম।

বর্তমানে কিউডেঙ্গা এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ৪৩টি দেশে অনুমোদিত। সরকারি ও বেসরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এবং এটি ডব্লিউএইচওর প্রি-কোয়ালিফিকেশন অর্জন করেছে। ভারতের বাজারে টিকাটি সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানিয়েছে তাকেদা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাদিমা মোহাম্মদীর ওপর হামলায় মহিলা পরিষদের ক্ষোভ

ভারতে প্রথম ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন, কারা নিতে পারবেন?

Update Time : ১০:১৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি ‘কিউডেঙ্গা’ টিকাটি বাজারজাত করার অনুমতি দিয়েছে। ফলে এটি ভারতের ইতিহাসে অনুমোদন পাওয়া প্রথম ডেঙ্গু টিকায় পরিণত হলো।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তি এই টিকা নিতে পারবেন। তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে হবে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।

তাকেদা জানিয়েছে, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা বিবেচনা না করেই এই টিকা নেওয়া যাবে। এমনকি টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণের ইতিহাস জানতে কোনো প্রি-ভ্যাকসিনেশন স্ক্রিনিং বা পরীক্ষারও প্রয়োজন হবে না।

ভারতে ডেঙ্গু বর্তমানে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিশ্বে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক মডেলেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে কার্যকর টিকার অনুমোদন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিউডেঙ্গার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন কর্মসূচির তথ্যের ভিত্তিতে। ফেজ-১, ফেজ-২ ও ফেজ-৩ মিলিয়ে মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ ও ডেঙ্গু-অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।

ফেজ-৩ ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী ছিলেন। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ

এ ছাড়া ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ। সাড়ে চার বছরের ফলোআপে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। সাত বছরের পর্যবেক্ষণেও চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

ভারতে অনুমোদনের ক্ষেত্রে দেশটির ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পরিচালিত ফেজ-৩ ট্রায়ালের ফলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সী মানুষের জন্য টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম।

বর্তমানে কিউডেঙ্গা এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ৪৩টি দেশে অনুমোদিত। সরকারি ও বেসরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ সরবরাহ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে টিকাটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এবং এটি ডব্লিউএইচওর প্রি-কোয়ালিফিকেশন অর্জন করেছে। ভারতের বাজারে টিকাটি সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানিয়েছে তাকেদা।