ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo তেলের দাম আরও কমল বিশ্ববাজারে Logo সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৬টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস Logo শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, গ্রেফতার গুদাম মালিক Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক সংসদ সদস্য হারুন-আল-রশীদের ইন্তেকাল। Logo উত্তরা ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন Logo শিপিং খাতে বড় সুযোগ ,বাংলাদেশ ব্যাংক জাহাজ ইজারার ভাড়া পরিশোধ সহজ করল Logo ডিবি সদস্যদের ওপর হামলা: নারায়ণগঞ্জে ৩ পুলিশ সদস্যকে পিটুনি, এসআই গুরুতর আহত Logo হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা ও ঝুঁকি, যা জানা জরুরি Logo হারুন অর রশীদ মারা গেছেন: বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও পাঁচবারের এমপি আর নেই Logo পাস্তা সালাদ: স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু ঘরোয়া সালাদ

ইসরায়েল শান্তিচুক্তি নিয়ে বেন-গভিরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান

জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে বক্তব্য দিলেন ইতামার বেন-গভির। ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েল শান্তিচুক্তি ইস্যুতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা ইসরায়েলের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ইসরায়েলের নিজস্ব নেতৃত্বের হাতে থাকা উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বেন-গভির বলেন, ইসরায়েল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই অন্য কোনো দেশের সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস না করার অবস্থান তুলে ধরেন।

সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যে শান্তিচুক্তির আলোচনা চলছে, সেখানে লেবানন সীমান্তে সামরিক তৎপরতা কমানো এবং কিছু নিরাপত্তা শর্ত মানার বিষয় উঠে এসেছে। তবে বেন-গভিরের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে যে, এসব শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েল নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নকেই বেশি গুরুত্ব দেবে।

দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও কূটনৈতিক চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি অসলো চুক্তি, ২০০৬ সালের লেবানন চুক্তি এবং গাজা নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেন-গভিরের এই অবস্থান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়াতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই সমঝোতা ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টরপন্থি অংশ নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে ইরান, ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেন-গভিরের মন্তব্যের পর ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয় এবং ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেদিকে এখন বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের দাম আরও কমল বিশ্ববাজারে

ইসরায়েল শান্তিচুক্তি নিয়ে বেন-গভিরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান

Update Time : ০৪:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইসরায়েল শান্তিচুক্তি ইস্যুতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা ইসরায়েলের ওপর বাধ্যতামূলক নয়। তার মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কেবল ইসরায়েলের নিজস্ব নেতৃত্বের হাতে থাকা উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বেন-গভির বলেন, ইসরায়েল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাই অন্য কোনো দেশের সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আপস না করার অবস্থান তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  হঠাৎ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় তেহরানের আকাশ

সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যে শান্তিচুক্তির আলোচনা চলছে, সেখানে লেবানন সীমান্তে সামরিক তৎপরতা কমানো এবং কিছু নিরাপত্তা শর্ত মানার বিষয় উঠে এসেছে। তবে বেন-গভিরের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে যে, এসব শর্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েল নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নকেই বেশি গুরুত্ব দেবে।

দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও কূটনৈতিক চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি অসলো চুক্তি, ২০০৬ সালের লেবানন চুক্তি এবং গাজা নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  ইরান চুক্তি ঘিরে ট্রাম্পকে কড়া সমালোচনা, ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্নে উত্তপ্ত ওয়াশিংটন

বিশ্লেষকদের মতে, বেন-গভিরের এই অবস্থান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়াতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই সমঝোতা ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টরপন্থি অংশ নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে ইরান, ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেন-গভিরের মন্তব্যের পর ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয় এবং ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেদিকে এখন বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে।

আরও পড়ুন  দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নারী-শিশুসহ নিহত ৩১