ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জোরালো বার্তা বাংলাদেশের Logo ব্রাজিলের জয়ে টিএসসিতে উল্লাসে মাতল ঢাবি Logo আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি Logo ‘কোনো অহংকার ছিল না জাভেদ ভাইয়ের’: স্মৃতিকাতর রোজিনা Logo প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে: উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন দিক Logo স্টার্টআপ জগতে বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত চাহিদা ও বাস্তবতা Logo বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তারা কেন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন Logo বিশ্বকাপে আবারও ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল, জার্মানিকে টপকে শীর্ষে গোলদাতা দল Logo বাজারচাপে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পথে বিএমডব্লিউ Logo যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে গালফ এয়ারলাইনসের নতুন অগ্রগতি

৩০ মৃত্যুর ঘটনায় কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র

কঙ্গোর কিগোনজে শরণার্থী শিবিরে ইবোলা উপসর্গে মৃতদের দাফনের আগে স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন।ছবি: সংগৃহীত

কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিগোনজে শরণার্থী শিবিরে গত মে মাসের শুরু থেকে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বেশিরভাগের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা ও বমির মতো ইবোলার উপসর্গ থাকায় সেখানে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুনিয়া শহরের কাছে অবস্থিত এই শিবিরে প্রায় ১৫ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করেন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যায়নি, কারণ অনেক পরিবার জীবিত রোগী ও মৃতদেহের নমুনা পরীক্ষা করতে রাজি হয়নি।

শিবিরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে যেখানে মাসে এক থেকে তিনজনের মৃত্যু হতো, সেখানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। শুধু এক সপ্তাহেই ১০ জনকে দাফন করা হয়েছে।

সহায়তা সংস্থা কারিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ একাধিক মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা পোশাক পরে মরদেহ জীবাণুমুক্ত করতে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের সংঘাত, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। বর্তমানে দেশটিতে ৫০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ বিভিন্ন শিবিরে বসবাস করছে।

কিগোনজে শিবিরে বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। অনেক পরিবার ছোট প্লাস্টিকের তাঁবুতে গাদাগাদি করে থাকে এবং টয়লেটের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাতে অর্থায়ন ২০২৫ সালে অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। চলতি বছরের জন্য চাওয়া তহবিলের মাত্র ২১ শতাংশ পাওয়া গেছে।

মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দাতার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ রোগটির বিস্তার আরও দ্রুত করতে পারে।

ইতুরি প্রদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০ নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। কিগোনজে শিবির থেকে পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা চলছে।

সব মিলিয়ে, কিগোনজে শিবিরে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে ইবোলা আতঙ্ক বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, অর্থায়নের সংকট এবং পরীক্ষার প্রতি অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জোরালো বার্তা বাংলাদেশের

৩০ মৃত্যুর ঘটনায় কঙ্গোয় ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র

Update Time : ১২:৫২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিগোনজে শরণার্থী শিবিরে গত মে মাসের শুরু থেকে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বেশিরভাগের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা ও বমির মতো ইবোলার উপসর্গ থাকায় সেখানে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুনিয়া শহরের কাছে অবস্থিত এই শিবিরে প্রায় ১৫ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করেন। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যায়নি, কারণ অনেক পরিবার জীবিত রোগী ও মৃতদেহের নমুনা পরীক্ষা করতে রাজি হয়নি।

শিবিরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে যেখানে মাসে এক থেকে তিনজনের মৃত্যু হতো, সেখানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। শুধু এক সপ্তাহেই ১০ জনকে দাফন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন না পাওয়া নিয়ে এনসিপিতে যোগ: বিএনপি-জামায়াত প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁনের মন্তব্য

সহায়তা সংস্থা কারিতাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ একাধিক মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা পোশাক পরে মরদেহ জীবাণুমুক্ত করতে দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিনের সংঘাত, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। বর্তমানে দেশটিতে ৫০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ বিভিন্ন শিবিরে বসবাস করছে।

আরও পড়ুন  বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সুখবর, টোলমুক্ত থাকছে হরমুজ প্রণালি ৬০ দিন

কিগোনজে শিবিরে বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও চিকিৎসা সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। অনেক পরিবার ছোট প্লাস্টিকের তাঁবুতে গাদাগাদি করে থাকে এবং টয়লেটের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি খাতে অর্থায়ন ২০২৫ সালে অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। চলতি বছরের জন্য চাওয়া তহবিলের মাত্র ২১ শতাংশ পাওয়া গেছে।

মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দাতার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নাসার আর্টেমিস-২ মিশন থেকে চাঁদের হাই-রেজোলিউশন ছবি প্রকাশ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ রোগটির বিস্তার আরও দ্রুত করতে পারে।

ইতুরি প্রদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০ নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। কিগোনজে শিবির থেকে পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা চলছে।

সব মিলিয়ে, কিগোনজে শিবিরে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে ইবোলা আতঙ্ক বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, অর্থায়নের সংকট এবং পরীক্ষার প্রতি অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।