অনেকেই অভিযোগ করেন, খুব বেশি না খেলেও তাদের ওজন ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়টি শুধু অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার কারণে নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের বিপাকক্রিয়া, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণেও ওজন বাড়তে পারে।
বিপাকক্রিয়ার গতি কমে গেলে
শরীর খাবার থেকে পাওয়া শক্তি কত দ্রুত ব্যবহার করবে, তা নির্ভর করে বিপাকক্রিয়ার ওপর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা কিছু ক্ষেত্রে জিনগত কারণে এই গতি কমে যেতে পারে। ফলে একই পরিমাণ খাবার খেলেও অতিরিক্ত ক্যালরি চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে
ঘুম কম হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে মিষ্টি ও বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে, যা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করে।
মানসিক চাপের প্রভাব
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ায়। এই হরমোন পেটের চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়াতে পারে।
হরমোন ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা
থাইরয়েডের সমস্যা, পিসিওএস কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও ওজন বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
খাবারের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ
কম খেলেও যদি খাবারে বেশি চিনি, তেল বা প্রক্রিয়াজাত উপাদান থাকে, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমতে পারে। তাই খাবারের গুণগত মানের দিকেও নজর দিতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
- প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমান।
- নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করুন।
- মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
- ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খান।
- অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
- প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কম খাওয়াই নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।





























