ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল’, পরবর্তী নিশানা কে—তুরস্ক না পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন দামামা। ছবি: সংগৃহীত।

ইসরায়েল সিরিয়া যুদ্ধ আজ হোক বা কাল অবশ্যই সংঘটিত হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এই কট্টরপন্থী নেতা সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সিরিয়ার বর্তমান ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারের ‘জিহাদি’ শাসনব্যবস্থা কখনোই ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না। আইএস ও আল-কায়েদার আদর্শে বিশ্বাসী এই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য জেরুজালেম দখল করা, যা ইসরায়েলিদের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি বলে তিনি মনে করেন।

চিকলি তাঁর দৃষ্টিতে গড়ে ওঠা এক নতুন ইসরায়েলবিরোধী জোটের রূপরেখা তুলে ধরে স্পষ্ট জানান যে, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতার মিলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘উগ্র সুন্নি অক্ষ’ গঠন করেছে। এই নতুন জোট নিয়ে তিনি এতটাই চিন্তিত যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির চেয়েও এটি তাঁকে বেশি উদ্বিগ্ন করছে। লিকুদ পার্টির এই মন্ত্রীর মতে, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ইরান বড় সাফল্য পেলেও, মধ্যপ্রাচ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা নতুন এই অক্ষটি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য তার চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক।

এই নতুন জোটে তুরস্ক ও পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো এবং তারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারীর কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতারকে তিনি ‘জিহাদিদের জনসংযোগ শাখা’ হিসেবে কঠোরভাবে আখ্যায়িত করেছেন। মূলত তুরস্ক, কাতার ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কথিত অক্ষটিকে তিনি অতীতে দেখা যেকোনো জোটের চেয়েও মারাত্মক ও বিধ্বংসী বলে বর্ণনা করেন, যা সরাসরি ইসরায়েল সিরিয়া যুদ্ধ সৃষ্টির পেছনে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।

চিকলি বিশ্বজুড়ে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থী উসকানিদাতা টমি রবিনসনের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন। রবিনসনকে ব্রিটিশ পুলিশ আটক করার পর চিকলি দাবি করেন, প্রকৃত ইসলামি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের স্পষ্ট কণ্ঠস্বরকে হেনস্তা করা হচ্ছে, যার ফলে ব্রিটেন খুব দ্রুতই ইউরোপের দ্বিতীয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। এছাড়া পাকিস্তান ও তুরস্ককে তিনি ভারতের পাশাপাশি গ্রিস ও সাইপ্রাসের শত্রু বলে উল্লেখ করেন, যারা মূলত ইসরায়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত।

সাক্ষাৎকারে চিকলির মূল মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তুরস্ক এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দূরদর্শী লক্ষ্য, যা তিনি ইসরায়েলের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংমিশ্রণ বলে মনে করেন। তিনি দাবি করেন, তুরস্ক ইতিমধ্যেই সিরিয়ায় একটি নিজস্ব নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে এবং সামরিক দিক থেকে তারা ইরানের চেয়েও প্রায় ১০ হাজার গুণ বেশি উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কট্টরপন্থী মন্ত্রীর মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের অবৈধ হামলার জবাবে এরদোয়ান বলেছেন যে, मानवताর স্বার্থেই ইসরায়েলকে এখনই থামাতে হবে।

চিকলিই প্রথম নন, এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটসহ লিকুদ পার্টির অনেক আইনপ্রণেতাই তুরস্ককে একটি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ এবং ‘নতুন ইরান’ বলে অভিহিত করেছেন। আড়াই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরায়েলিরা কোনো শান্তিময় সময়ের আশা করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিকলি জানান, শান্তি আসলেও তা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ফলে যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইসরায়েল সিরিয়া যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে ইসরায়েল’, পরবর্তী নিশানা কে—তুরস্ক না পাকিস্তান

Update Time : ০৯:০৬:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ইসরায়েল সিরিয়া যুদ্ধ আজ হোক বা কাল অবশ্যই সংঘটিত হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এই কট্টরপন্থী নেতা সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সিরিয়ার বর্তমান ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারের ‘জিহাদি’ শাসনব্যবস্থা কখনোই ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না। আইএস ও আল-কায়েদার আদর্শে বিশ্বাসী এই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য জেরুজালেম দখল করা, যা ইসরায়েলিদের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি বলে তিনি মনে করেন।

চিকলি তাঁর দৃষ্টিতে গড়ে ওঠা এক নতুন ইসরায়েলবিরোধী জোটের রূপরেখা তুলে ধরে স্পষ্ট জানান যে, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতার মিলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘উগ্র সুন্নি অক্ষ’ গঠন করেছে। এই নতুন জোট নিয়ে তিনি এতটাই চিন্তিত যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির চেয়েও এটি তাঁকে বেশি উদ্বিগ্ন করছে। লিকুদ পার্টির এই মন্ত্রীর মতে, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে ইরান বড় সাফল্য পেলেও, মধ্যপ্রাচ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা নতুন এই অক্ষটি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য তার চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক।

আরও পড়ুন  ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণ, কী চ্যালেঞ্জ সামনে?

এই নতুন জোটে তুরস্ক ও পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো এবং তারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারীর কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় দেশ কাতারকে তিনি ‘জিহাদিদের জনসংযোগ শাখা’ হিসেবে কঠোরভাবে আখ্যায়িত করেছেন। মূলত তুরস্ক, কাতার ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কথিত অক্ষটিকে তিনি অতীতে দেখা যেকোনো জোটের চেয়েও মারাত্মক ও বিধ্বংসী বলে বর্ণনা করেন, যা সরাসরি ইসরায়েল সিরিয়া যুদ্ধ সৃষ্টির পেছনে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।

চিকলি বিশ্বজুড়ে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের কট্টরপন্থী উসকানিদাতা টমি রবিনসনের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন। রবিনসনকে ব্রিটিশ পুলিশ আটক করার পর চিকলি দাবি করেন, প্রকৃত ইসলামি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের স্পষ্ট কণ্ঠস্বরকে হেনস্তা করা হচ্ছে, যার ফলে ব্রিটেন খুব দ্রুতই ইউরোপের দ্বিতীয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হবে। এছাড়া পাকিস্তান ও তুরস্ককে তিনি ভারতের পাশাপাশি গ্রিস ও সাইপ্রাসের শত্রু বলে উল্লেখ করেন, যারা মূলত ইসরায়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন  ডা. শফিকুর রহমান জাপান সফর | এক সপ্তাহের জাপান সফরে জামায়াত আমির

সাক্ষাৎকারে চিকলির মূল মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল তুরস্ক এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের দূরদর্শী লক্ষ্য, যা তিনি ইসরায়েলের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সংমিশ্রণ বলে মনে করেন। তিনি দাবি করেন, তুরস্ক ইতিমধ্যেই সিরিয়ায় একটি নিজস্ব নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে এবং সামরিক দিক থেকে তারা ইরানের চেয়েও প্রায় ১০ হাজার গুণ বেশি উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কট্টরপন্থী মন্ত্রীর মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের অবৈধ হামলার জবাবে এরদোয়ান বলেছেন যে, मानवताর স্বার্থেই ইসরায়েলকে এখনই থামাতে হবে।

আরও পড়ুন  বিশ্বজুড়ে আলোচনায় "মাইকেল জ্যাকসনের" বায়োপিক

চিকলিই প্রথম নন, এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটসহ লিকুদ পার্টির অনেক আইনপ্রণেতাই তুরস্ককে একটি ‘শত্রু রাষ্ট্র’ এবং ‘নতুন ইরান’ বলে অভিহিত করেছেন। আড়াই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরায়েলিরা কোনো শান্তিময় সময়ের আশা করতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিকলি জানান, শান্তি আসলেও তা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ফলে যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইসরায়েল সিরিয়া যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।