ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে ৭ হাজার ইয়াবা, নেত্রকোনায় আটক ২

চিত্রঃ নেত্রকোনায় অভিযানে উদ্ধার ৭ হাজার ইয়াবা। (সংগৃহীত)

নেত্রকোনায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে ৭ হাজার ইয়াবা বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে পরিবহনের সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলার সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ইয়াবার এই বড় চালান জব্দ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অংশে বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়।

 

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে ডিএনসির একটি বিশেষ দল। জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলটি থামানোর পর চালক ও আরোহীর আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন কর্মকর্তারা। এরপর মোটরসাইকেলটির বিভিন্ন অংশে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়।

 

তল্লাশির একপর্যায়ে ইঞ্জিনের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৭ হাজার পিস ইয়াবা। পরে ঘটনাস্থলেই মাদকগুলো জব্দ করা হয় এবং মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের চিরাম গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহেল মিয়া (৩৬) এবং মো. সজীব (২৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন অংশে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উদ্ধার করা ৭ হাজার পিস ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ এই মাদক বাজারে পৌঁছাতে পারলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। কখনও যানবাহনের গোপন প্রকোষ্ঠ, আবার কখনও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ভেতরে মাদক লুকিয়ে পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে এসব কৌশল অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে। এ ঘটনায় ডিএনসির পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আটক দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

ডিএনসির কর্মকর্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই নয়, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ একযোগে কাজ করলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে জনসাধারণের সহযোগিতা অপরিহার্য। কোথাও মাদক লেনদেন বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই আরও কার্যকর হবে।

 

নেত্রকোনায় পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে, মাদক কারবারিরা যতই নতুন কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের তৎপরতা প্রতিহত করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম সুলতানি আমল: সমুদ্রবন্দরের সোনালি ইতিহাস

মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে ৭ হাজার ইয়াবা, নেত্রকোনায় আটক ২

Update Time : ১২:২২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নেত্রকোনায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে ৭ হাজার ইয়াবা বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে পরিবহনের সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলার সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ইয়াবার এই বড় চালান জব্দ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অংশে বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়।

 

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অস্থায়ী তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে ডিএনসির একটি বিশেষ দল। জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলটি থামানোর পর চালক ও আরোহীর আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন কর্মকর্তারা। এরপর মোটরসাইকেলটির বিভিন্ন অংশে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়।

আরও পড়ুন  পটিয়ায় ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার: বাইকার গ্যাংয়ের ৬ সদস্য আটক

 

তল্লাশির একপর্যায়ে ইঞ্জিনের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি করা একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৭ হাজার পিস ইয়াবা। পরে ঘটনাস্থলেই মাদকগুলো জব্দ করা হয় এবং মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের চিরাম গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহেল মিয়া (৩৬) এবং মো. সজীব (২৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন অংশে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উদ্ধার করা ৭ হাজার পিস ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ এই মাদক বাজারে পৌঁছাতে পারলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন  আরচ্যারি ফেডারেশনে সাধারণ সম্পাদককে ঘিরে অনাস্থা, হস্তক্ষেপে মন্ত্রণালয়ের তলব

 

কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বিভিন্ন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। কখনও যানবাহনের গোপন প্রকোষ্ঠ, আবার কখনও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ভেতরে মাদক লুকিয়ে পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে এসব কৌশল অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে। এ ঘটনায় ডিএনসির পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, আটক দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন  রাবি ক্যাম্পাসে মাটির নিচে পুরনো বিস্ফোরক, পুলিশের তৎপরতায় নিস্ক্রিয়

 

ডিএনসির কর্মকর্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই নয়, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ একযোগে কাজ করলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে জনসাধারণের সহযোগিতা অপরিহার্য। কোথাও মাদক লেনদেন বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই আরও কার্যকর হবে।

 

নেত্রকোনায় পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছে, মাদক কারবারিরা যতই নতুন কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের তৎপরতা প্রতিহত করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।