বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়েছে শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার শক্তিশালী দল জাপান। ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে থাকলেও শেষ দেখার ফল এখন বাড়তি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজ ভোরে সুইডেনের বিপক্ষে জাপানের ড্রয়ের পর নকআউট পর্বের সমীকরণ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়। ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে জাপান। অন্যদিকে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল।
বিশ্ব ফুটবলে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পষ্ট আধিপত্য ব্রাজিলের। এখন পর্যন্ত ১৪ বার একে অপরের বিপক্ষে খেলেছে দুই দল। এর মধ্যে ১১ ম্যাচে জয় পেয়েছে সেলেসাওরা, দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং মাত্র একবার জয়ের স্বাদ পেয়েছে জাপান।
তবে পরিসংখ্যানের এই একমাত্র জাপানি জয়ই এখন ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। কারণ সেই জয়টি এসেছে দুই দলের সর্বশেষ দেখায়, ২০২৫ সালের প্রীতি ম্যাচে। ফলে অতীতের রেকর্ড যতই ব্রাজিলের পক্ষে থাকুক, আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে ব্লু সামুরাইরা।
গত বছরের অক্টোবরে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে নাটকীয় ৩-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল জাপান। সেই ম্যাচে জাপানের হয়ে গোল করেছিলেন তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা ও আয়াসে উয়েদা। ব্রাজিলের হয়ে গোল করেছিলেন পাউলো হেনরিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি।
পাউলো হেনরিক এবার বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পেলেও মার্তিনেল্লি রয়েছেন ব্রাজিলের স্কোয়াডে। ফলে আগের ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ থাকবে আনচেলত্তির দলের সামনে। একই সঙ্গে প্রতিশোধ নেওয়ার বাড়তি অনুপ্রেরণাও থাকবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
জাপানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে দলটি। এরপর ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেই নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
শুধু ব্রাজিলকে হারানোই নয়, চলতি বছরের মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ১-০ গোলের জয় তুলে নেয় জাপান। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে এমন সাফল্য তাদের মানসিক দৃঢ়তা আরও বাড়িয়েছে। তাই বিশ্বকাপের নকআউটেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে তারা।
ব্রাজিল ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলাটা অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, জাপানেরও জয়ের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। অতীতে ব্রাজিলের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ হলেও এখন সেই বাস্তবতা বদলে গেছে বলে মনে করেন তিনি।
মোরিয়াসু আরও বলেন, সর্বশেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারানোর স্মৃতি তার দলের খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, নকআউটের ম্যাচ সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করে। ছোট ছোট ভুলও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
অন্যদিকে ব্রাজিল জানে, বিশ্বকাপের নকআউটে কোনো ভুলের সুযোগ নেই। ইতিহাস, অভিজ্ঞতা এবং তারকাবহুল স্কোয়াড তাদের এগিয়ে রাখলেও সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। তাই শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে দুই দলের লক্ষ্যই থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা, যা ম্যাচটিকে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথে পরিণত করেছে।
























