ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে সেই বিএনপি নেতার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষক জুতাপেটা অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরও বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, তার অধিকাংশই বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। কোনো ভিডিও বা ছবির আংশিক অংশ প্রকাশ করে তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বিএনপি নেতা বলেন, একজন শিক্ষককে অসম্মান করার প্রশ্নই আসে না। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত থাকায় শিক্ষক সমাজের প্রতি তাঁর সবসময়ই শ্রদ্ধা রয়েছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ একটি মহল তাঁর জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। এ কারণে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

বিএনপি নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে মৌখিক আলোচনা হয়েছিল। তবে সেটি কখনোই শারীরিক সংঘর্ষ বা জুতাপেটার ঘটনায় রূপ নেয়নি। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসন যে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত করলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাও অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে অভিযোগকারী শিক্ষক ও তাঁর সমর্থকরা আগের অবস্থানেই রয়েছেন। তাদের দাবি, ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা পুরো বিষয়টি দেখেছেন এবং তদন্ত হলে সত্য প্রকাশ পাবে। এ নিয়ে এলাকায় এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাই ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে সবার।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে সেই বিএনপি নেতার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৫:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

শিক্ষক জুতাপেটা অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরও বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, তার অধিকাংশই বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। কোনো ভিডিও বা ছবির আংশিক অংশ প্রকাশ করে তাঁকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বিএনপি নেতা বলেন, একজন শিক্ষককে অসম্মান করার প্রশ্নই আসে না। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত থাকায় শিক্ষক সমাজের প্রতি তাঁর সবসময়ই শ্রদ্ধা রয়েছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন  যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ একটি মহল তাঁর জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। এ কারণে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

বিএনপি নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে মৌখিক আলোচনা হয়েছিল। তবে সেটি কখনোই শারীরিক সংঘর্ষ বা জুতাপেটার ঘটনায় রূপ নেয়নি। তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসন যে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত করলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

আরও পড়ুন  যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে গালফ এয়ারলাইনসের নতুন অগ্রগতি

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাও অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে অভিযোগকারী শিক্ষক ও তাঁর সমর্থকরা আগের অবস্থানেই রয়েছেন। তাদের দাবি, ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা পুরো বিষয়টি দেখেছেন এবং তদন্ত হলে সত্য প্রকাশ পাবে। এ নিয়ে এলাকায় এখনো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাই ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে সবার।