অবসেশন সিনেমা চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত হরর চলচ্চিত্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই সিনেমা বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে সবাইকে চমকে দিয়েছে। প্রেক্ষাগৃহে দারুণ সাফল্যের পর এবার সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। মঙ্গলবার থেকে দর্শকরা এটি অ্যাপল টিভি প্লাসে দেখতে পারছেন।
গত ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘অবসেশন’। মুক্তির পর থেকেই ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক হরর এবং অতিপ্রাকৃত উপাদানের মিশ্রণে তৈরি গল্পটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গড়ে সিনেমাটি বছরের অন্যতম সফল স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।
ওটিটি সংস্করণে দর্শকদের জন্য রয়েছে বাড়তি চমক। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সময় সেন্সর বোর্ডের নির্দেশনায় কিছু দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্মাতাদের দাবি, নতুন আনরেটেড সংস্করণে সেই কাটা অংশগুলো পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে দর্শকরা আরও দীর্ঘ, তীব্র এবং পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন। বিশেষ করে হররপ্রেমীদের জন্য এই সংস্করণটি আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিয়ার নামের এক তরুণ, যে একটি মিউজিক স্টোরে কাজ করে। একসময় সে তার বন্ধু নিকির প্রেমে পড়ে। কিন্তু স্বাভাবিকভাবে ভালোবাসা প্রকাশের পরিবর্তে একটি রহস্যময় অতিপ্রাকৃত খেলনার সাহায্যে নিকিকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ভয়ংকর দিকে মোড় নেয়। ভালোবাসা, আসক্তি এবং নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষা একসময় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্দে নাভারেত্তি ও মাইকেল জনস্টন। তাদের অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে চরিত্রগুলোর মানসিক পরিবর্তন ও আতঙ্কের আবহ ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তারা সফল হয়েছেন বলে মত দিয়েছেন অনেক চলচ্চিত্র বিশ্লেষক।
‘অবসেশন’ পরিচালনা করেছেন ক্যারি বারকার। হলিউডে তিনি আগে খুব পরিচিত নাম ছিলেন না। ইউটিউব এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমেই তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। এর আগে তিনি ‘দ্য চেয়ার’ এবং ‘মিল্ক অ্যান্ড সিরিয়াল’ নামে হররধর্মী প্রকল্প নির্মাণ করেছিলেন। তবে ‘অবসেশন সিনেমা’ তাকে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এনে দিয়েছে। বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি ওটিটিতেও ছবিটি দর্শকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





























