ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিশু সবজি খেতে চায় না? অভ্যাস বদলাবে ৬ সহজ কৌশলে Logo রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ, ২০০ বাংলাদেশি পাচ্ছেন সরকারি বৃত্তি Logo হঠাৎ সুগার কমলে মস্তিষ্কে বড় ঝুঁকি, কী করবেন? Logo ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু Logo পরীক্ষার আগে কী খাবেন? এই ৫ খাবার বাড়াবে মনোযোগ, মনে থাকবে পড়া Logo যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ জিতলে চাঁদে যাবে অফিসিয়াল ফুটবল! Logo মেক্সিকোতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, বিশ্বকাপ আয়োজক দেশে উদ্বেগ Logo ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে আতঙ্ক! ৩৮ বছরের অভিশাপ কি এবার কাটবে? Logo মিলে গেল ম্যারাডোনার ৮ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী! Logo বাংলাদেশকে হৃদয়ে রাখেন মার্তিনেজ, জানালেন বিশেষ ভালোবাসা

মিলে গেল ম্যারাডোনার ৮ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী!

ম্যারাডোনা

মিলে গেল ডিয়েগো ম্যারাডোনার আট বছর আগের সেই ভবিষ্যদ্বাণী। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে তিনি যে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর সময় বিজ্ঞাপন প্রচারের ঘটনা সেই বক্তব্যকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই বলছেন, সময়ের সঙ্গে যেন সত্যি হয়ে উঠেছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সেই মন্তব্য।

২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলকে আরও বেশি বাণিজ্যিকভাবে উপস্থাপন করতে চায়। তিনি মনে করতেন, খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে বিজ্ঞাপনের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা ভবিষ্যতে ফুটবলের ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ম্যারাডোনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগের একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের কথা। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ম্যাচকে ২৫ মিনিট করে চারটি কোয়ার্টারে ভাগ করার ধারণা সামনে আনা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।

তখন এ নিয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। তার ভাষায়, আমেরিকানরা খেলাটিকে চার পিরিয়ডে ভাগ করতে চেয়েছিল শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের সুবিধার জন্য। তিনি মনে করেছিলেন, এমন পরিবর্তন ফুটবলের মৌলিক সৌন্দর্য এবং ধারাবাহিকতা নষ্ট করবে।

বর্তমান বিশ্বকাপে ম্যাচের নির্দিষ্ট সময়ে হাইড্রেশন ব্রেকের সময় টেলিভিশন সম্প্রচারে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। যদিও ম্যাচকে চার ভাগে ভাগ করা হয়নি, তবুও অনেকের মতে বিজ্ঞাপনের জন্য অতিরিক্ত বিরতির ব্যবহার ম্যারাডোনার সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ফুটবল সমর্থক ম্যারাডোনার পুরোনো ভিডিও ও সাক্ষাৎকারের অংশ শেয়ার করে দাবি করছেন, কিংবদন্তি ফুটবলার অনেক আগেই ফুটবলের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।

অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর নাম ঘোষণার পরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন ম্যারাডোনা। বিশেষ করে মেক্সিকোকে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজনের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেনি।

মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাস টেনে এনে তিনি দাবি করেছিলেন, বড় শক্তির মুখোমুখি হলেই দলটি প্রায়শই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। বিশ্বকাপের মতো আসর আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, ফুটবল সংস্কৃতি ও ধারাবাহিক সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করতেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলকে ঘিরে ঐতিহ্যগত আবেগের ঘাটতি রয়েছে। আর কানাডাকে নিয়ে তিনি রসিকতার ছলে বলেছিলেন, তারা ফুটবলের চেয়ে স্কিইংয়েই বেশি দক্ষ।

ডিয়েগো ম্যারাডোনা ২০২০ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার অনেক মন্তব্য এখনও নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। বর্তমান বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেককে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন বিতর্ক আবারও প্রমাণ করেছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার কিছু পর্যবেক্ষণ সময়ের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু সবজি খেতে চায় না? অভ্যাস বদলাবে ৬ সহজ কৌশলে

মিলে গেল ম্যারাডোনার ৮ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী!

Update Time : ০১:২৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

মিলে গেল ডিয়েগো ম্যারাডোনার আট বছর আগের সেই ভবিষ্যদ্বাণী। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে তিনি যে আশঙ্কার কথা বলেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর সময় বিজ্ঞাপন প্রচারের ঘটনা সেই বক্তব্যকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই বলছেন, সময়ের সঙ্গে যেন সত্যি হয়ে উঠেছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সেই মন্তব্য।

২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলকে আরও বেশি বাণিজ্যিকভাবে উপস্থাপন করতে চায়। তিনি মনে করতেন, খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে বিজ্ঞাপনের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা ভবিষ্যতে ফুটবলের ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

ম্যারাডোনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগের একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের কথা। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ম্যাচকে ২৫ মিনিট করে চারটি কোয়ার্টারে ভাগ করার ধারণা সামনে আনা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে ক্ষুব্ধ তেহরান

তখন এ নিয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। তার ভাষায়, আমেরিকানরা খেলাটিকে চার পিরিয়ডে ভাগ করতে চেয়েছিল শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের সুবিধার জন্য। তিনি মনে করেছিলেন, এমন পরিবর্তন ফুটবলের মৌলিক সৌন্দর্য এবং ধারাবাহিকতা নষ্ট করবে।

বর্তমান বিশ্বকাপে ম্যাচের নির্দিষ্ট সময়ে হাইড্রেশন ব্রেকের সময় টেলিভিশন সম্প্রচারে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। যদিও ম্যাচকে চার ভাগে ভাগ করা হয়নি, তবুও অনেকের মতে বিজ্ঞাপনের জন্য অতিরিক্ত বিরতির ব্যবহার ম্যারাডোনার সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন।

আরও পড়ুন  নেইমার কি ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে খেলবেন?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ফুটবল সমর্থক ম্যারাডোনার পুরোনো ভিডিও ও সাক্ষাৎকারের অংশ শেয়ার করে দাবি করছেন, কিংবদন্তি ফুটবলার অনেক আগেই ফুটবলের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।

অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর নাম ঘোষণার পরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন ম্যারাডোনা। বিশেষ করে মেক্সিকোকে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, দেশটি বিশ্বকাপ আয়োজনের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেনি।

মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাস টেনে এনে তিনি দাবি করেছিলেন, বড় শক্তির মুখোমুখি হলেই দলটি প্রায়শই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। বিশ্বকাপের মতো আসর আয়োজনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, ফুটবল সংস্কৃতি ও ধারাবাহিক সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করতেন।

আরও পড়ুন  স্কালোনির চমকে বিশ্বকাপে সুযোগ পাচ্ছেন ৩ তরুণ তারকা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলকে ঘিরে ঐতিহ্যগত আবেগের ঘাটতি রয়েছে। আর কানাডাকে নিয়ে তিনি রসিকতার ছলে বলেছিলেন, তারা ফুটবলের চেয়ে স্কিইংয়েই বেশি দক্ষ।

ডিয়েগো ম্যারাডোনা ২০২০ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার অনেক মন্তব্য এখনও নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। বর্তমান বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেককে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন বিতর্ক আবারও প্রমাণ করেছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার কিছু পর্যবেক্ষণ সময়ের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।