দেশের জনপ্রিয় তিন সংগীতশিল্পী এবার সরাসরি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হওয়ার লক্ষ্যে পা বাড়িয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য তারা ইতোমধ্যেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন ও রিজিয়া পারভীন নিজ নিজ লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন। তাদের এই রাজনৈতিক যাত্রার খবরটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, দলের প্রতি দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও সততার কথা বিবেচনা করে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি দলটির একজন নিবেদিত প্রাণ হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে আসছেন। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী এবং দলের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি মনে করেন, সংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনের খুব কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। এখন সরাসরি রাজনীতির মাধ্যমে সেই মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি দলের স্বার্থে। দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত তিনি মাথা পেতে নেবেন বলেও সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন এই গুণী শিল্পী। দেশের প্রয়োজনে সবসময় প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি তার বক্তব্যে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনও তার রাজনৈতিক আনুগত্য ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা বলেন। তিনি গত চার দশক ধরে একই রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে অবিচলভাবে যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করেন। দেশের নতুন প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মহৎ লক্ষ্য নিয়েই তিনি নির্বাচনে এসেছেন। তার এই রাজনৈতিক সফর দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রমের ফসল বলে তিনি মনে করেন।
বেবী নাজনীন বলেন যে, দলের প্রতিটি সিদ্ধান্ত তিনি গত ৪০ বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে পালন করছেন। দলের প্রতি তার এই অটুট ভালোবাসা ও আনুগত্য ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি মূলত দেশের নতুন প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এবং দেশসেবায় মনোনিবেশ করতে চান। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা এবার তিনি রাজনীতির বৃহত্তর ময়দানে কাজে লাগাতে চান।
সংগীত অঙ্গনের আরেক পরিচিত মুখ রিজিয়া পারভীন এবার প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি মূলত তার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন আবেদন জমা দিয়েছেন। এতদিন সুর ও তালের মাধ্যমে মানুষের বিনোদন দিলেও এবার তিনি সাধারণের সেবা করতে চান। জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল হওয়াকেই তিনি এখন জীবনের প্রধান ব্রত মনে করছেন।
রিজিয়া পারভীন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তিনি মাটির টানেই কিশোরগঞ্জ থেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী হয়েছেন। নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা তার দীর্ঘদিনের এবং সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি সচেষ্ট। তিনি মনে করেন যে, নির্বাচিত হতে পারলে তিনি স্থানীয় নারীদের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নারী উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নকেও তিনি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে চান বলে জানিয়েছেন। শিল্পী হিসেবে শিল্পীদের অভাব-অভিযোগ ও সংস্কৃতির বিকাশে তিনি সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে চান মনে করেন। ইতিপূর্বে তিনি তার নিজ এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু সমাজসেবামূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এখন সরকারি পর্যায়ে কাজের সুযোগ পেলে তিনি আরও বড় পরিসরে সেবা করতে পারবেন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের এই প্রক্রিয়াটি তিন শিল্পীর ভক্তদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দল ও দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের এই পথচলা রাজনীতির ইতিহাসে শিল্পীদের ভূমিকার এক নতুন অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে। সাধারণ মানুষও তাদের এই নতুন যাত্রার দিকে গভীর আগ্রহের সাথে তাকিয়ে আছে।
কনকচাঁপা তার বক্তব্যে দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন। তিনি মনে করেন, শিল্পীদের সংবেদনশীল মন দিয়ে রাজনীতির কঠিন পথকেও সহজ করা সম্ভব মানুষের সেবায়। মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করতে চান সামনে থেকে। দলের ত্যাগী কর্মী হিসেবে তিনি এখন বড় কোনো দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন।
বেবী নাজনীনের মতে, রাজনীতি হলো মানুষের সেবা করার সবচেয়ে বড় ও কার্যকর একটি প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম। তিনি মনে করেন, শিল্পীরা যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসেন তবে সমাজ আরও মানবিক হয়ে উঠতে পারে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে তিনি সবসময় দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আগামীতেও সকল লড়াইয়ে তিনি অগ্রভাগে থাকবেন। নতুন প্রজন্মের সুন্দর আগামীর জন্য তিনি নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন পূর্ণ উদ্যমে।
রিজিয়া পারভীনও তার নির্বাচনি ইশতেহারে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। তিনি মনে করেন, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি ছাড়া দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কখনো সম্ভব হবে না। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার মাধ্যমে তিনি তরুণদের সুস্থ ধারার জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছেন। তার এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য তিনি ভোটার ও দল উভয়ের সমর্থন চান।
উপসংহারে বলা যায়, এই তিন শিল্পীর মনোনয়ন সংগ্রহ দেশের রাজনীতিতে এক বিশেষ বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে। শিল্প ও রাজনীতির এই মেলবন্ধন জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে বলেই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন এখন। এখন দেখার বিষয় যে, মনোনয়ন বোর্ড তাদের এই আগ্রহ ও ত্যাগকে কতটা মূল্যায়ন করে শেষ পর্যন্ত। তবে তারা তিনজনেই নিজ নিজ অবস্থানে অবিচল থেকে কাজ করে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।




























