বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচ ঘিরে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে মানুয়েল রামোস-হোর্তা। শক্তির বিচারে লিওনেল মেসির দলকে এগিয়ে রাখলেও তিনি দাবি করেছেন, এবারই বিশ্বকাপে প্রথম পরাজয়ের মুখ দেখবে আর্জেন্টিনা। তার এই সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনা অন্যতম পরাশক্তি। অন্যদিকে কেপ ভার্দে তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ দল হলেও এবারের আসরে তারা দারুণ লড়াকু ফুটবল খেলেছে। সেই পারফরম্যান্স দেখেই রামোস-হোর্তার বিশ্বাস, মেসিদের জন্য সহজ প্রতিপক্ষ হবে না আফ্রিকার দেশটি।
এক বক্তব্যে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই রাষ্ট্রনেতা বলেন, ‘মেসি তার প্রথম পরাজয়ের মুখ দেখবে। আর্জেন্টিনার পক্ষে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের সামলানো সম্ভব হবে না।’ তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
রামোস-হোর্তার মতে, কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তার পেছনে রয়েছে তাদের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা মানুষ হিসেবে তারা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি সহনশীল এবং দৃঢ়চেতা।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন কেপ ভার্দের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘কাচুপা’র কথা। ভুট্টা, শিম, বিভিন্ন ধরনের মাংস ও উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ এই খাবার দেশটির মানুষের শক্তি ও সহনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তার বিশ্বাস। এমন খাদ্যাভ্যাস খেলোয়াড়দেরও বাড়তি শক্তি জোগায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুধু খাবার নয়, কেপ ভার্দের মানুষের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসকেও বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, দেশটির মানুষ গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ এবং ক্যাথলিক বিশ্বাসের পাশাপাশি আফ্রিকান আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য তাদের মানসিক দৃঢ়তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সব দেবতার আশীর্বাদ কেপ ভার্দের সঙ্গে রয়েছে।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দলটির আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তিই তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। বড় দলের বিপক্ষে খেলতে নামলেও তারা নিজেদের সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে।
কেপ ভার্দের প্রতি নিজের আস্থার কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন রামোস-হোর্তা। তিনি বলেন, ‘কেপ ভার্দে জাতীয় দলকে কে বিশ্বাস করেনি? বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, কে বিশ্বাস করেছে? আমি বিশ্বাস করেছি, এখনও করি। কেপ ভার্দে এরই মধ্যে জয়ী।’ তার মতে, শুধু শেষ ষোলোয় ওঠাটাই দলটির জন্য বড় অর্জন।
এদিকে ম্যাচটিকে ঘিরে আর্জেন্টিনা শিবিরেও রয়েছে আত্মবিশ্বাস। গ্রুপপর্বে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করে নকআউট পর্বে এসেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।
বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। ম্যাচের আগে পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্টের সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, সেটি কতটা সত্যি হয় তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই। এখন দেখার বিষয়, মেসিরা কি সমালোচকদের জবাব দিয়ে জয় তুলে নেন, নাকি কেপ ভার্দে সত্যিই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দেয়।

























