ওমানের ক্রিকেট একাডেমি মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে হার এড়িয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে ১৫ রান প্রয়োজন হলেও শেষ পর্যন্ত ৩০৪ রান করে ম্যাচ টাই করেছে বাংলাদেশ। শেষ বলে ২ রানের সমীকরণে ব্যাটে-বলে সংযোগ করতে না পারলেও দৌড়ে দুই রান পূর্ণ করেন রুবাই ইসলাম রিজন ও শেখ আতিকুর রহমান। সোমবারের এই নাটকীয় ম্যাচে রিজনের ব্যাটিং ও বোলিং নৈপুণ্যে চার ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা আর পূর্ণতা পায়নি। জিততে পারলে যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়ার নতুন রেকর্ড হতো। এর আগে ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৪ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এবারও একই লক্ষ্য ছুঁয়ে ম্যাচ টাই করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে যুবাদের।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে ৭০ রান সংগ্রহ করে দলটি। আবদুল্লাহ আল মুহি ৯টি চারের সাহায্যে ৪৫ বলে ৫০ রান করে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে আফগান বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
তৃতীয় উইকেটে আল আমিন হোসেন রনি ও আহসান আল মুমিনের ৮০ রানের জুটি বাংলাদেশের জয়ের আশা আরও বাড়িয়ে দেয়। মাত্র ৭৪ বলে এই রান যোগ করেন দুজন। আল আমিন ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৬ বলে ৭১ রান করেন। অন্যদিকে আহসান ৬৬ বলে ৫৬ রান করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন।
তবে মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ২৮ বলে যখন ৪০ রান প্রয়োজন, তখন হাতে ছিল মাত্র তিন উইকেট। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ে নামেন রিজন। এরপর শাকিল খান ফিরে গেলে বাংলাদেশের জয়ের আশা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি এই তরুণ ব্যাটসম্যান।
৪৮তম ওভারে ছক্কা মেরে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান রিজন। কিন্তু পরের ওভারে ইমরান মোহাম্মাদি মাত্র এক রান দেওয়ায় শেষ ওভারে সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়। শেষ ছয় বলে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম দুই বলে স্ট্রাইক না পেলেও পরের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলেন রিজন। এরপর দুই রান ও একটি ছক্কায় শেষ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় দুই রানের।
শেষ বলে ব্যাটে-বলে সংযোগ না হলেও দৌড়ে দুই রান নিয়ে ম্যাচ টাই করেন রিজন ও শেখ আতিকুর রহমান। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় মাত্র ১৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন রিজন। ব্যাট হাতে দলকে হার থেকে বাঁচানোর পাশাপাশি বল হাতেও ছিলেন উজ্জ্বল। ৯ ওভারে ৭২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। প্রথম ১০ ওভারে ৭৪ রান তুলে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেয় দলটি। মাঝের দিকে বাংলাদেশের বোলাররা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেও শেষ দিকে আবারও গতি বাড়ায় আফগান ব্যাটসম্যানরা।
ফারিদউল্লাহ ইহসাস ৫১ এবং নোমান সালারজাই ৭৬ রান করেন। শেষ দিকে তাহির সারওয়ারির ৩১ বলে ৪৩ ও আমির হামজার ১১ বলে ২১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ৩০৪ রানে পৌঁছায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে যুব ওয়ানডেতে এটিই তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
চার ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। একই মাঠে বুধবার সিরিজের তৃতীয় যুব ওয়ানডেতে আবারও মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। সেই ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দুই দল।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন