চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ মো. নুরুল আলম
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের বড়পাড়া এলাকায় পৈত্রিক ভিটা দখলকে কেন্দ্র করে বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও দুই নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পেয়ার মোহাম্মদ (৪০) বাদী হয়ে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে চন্দনাইশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক বাড়ি-ভিটার জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ২৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা দা, লোহার রড, লাঠিসোটা নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে জবর দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় টিনের ঘর ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।

বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীর মামাতো বোন নূর আক্তার (৪২) ও সৎ মা জাহানারা বেগমকে (৫০) বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাদের গুরুতর জখম করা হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়।
এসময় পাকা বসতঘরে ঢুকে আলমিরায় থাকা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা) লুট করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করলে বিবাদীরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে সবাইকে মেরে লাশ গুম করে ফেলবে।
পরে ভুক্তভোগী পেয়ার মোহাম্মদ খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে আহত মামাতো বোন ও সৎ মাকে উদ্ধার করে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। অভিযোগের সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পেয়ার মোহাম্মদ বলেন, "আমার অসহায় মা-বোনকে যেভাবে মেরেছে, এটা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
এ বিষয়ে চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এলাকাবাসী এ ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন