মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বাল্কহেড চলাচলে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বালিগাঁও ডহরি তালতলা খালে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলাচল করছে বালুবাহী বাল্কহেড। এসব নৌযানের সৃষ্ট ঢেউয়ে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে ফসলি জমি, বসতভিটা, সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে খালের তীরবর্তী কয়েকশ পরিবার দিন কাটাচ্ছে উদ্বেগের মধ্যে।

লৌহজংয়ে বাল্কহেড চলাচলের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে খিদিপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলকচি গ্রামের ফুলকচি দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খালের পাড় ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষিজমি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন এলাকার কৃষকরাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মে লৌহজং উপজেলা প্রশাসন ডহরি-তালতলা খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে না। দিন-রাত খালে চলাচল করছে বালুবাহী নৌযান। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায় এসব বাল্কহেড চলাচল করছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে খালের দুই তীরে ভাঙন বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে অনেক কৃষিজমি ও স্থাপনা বিলীন হয়েছে।

এ খালে বাল্কহেড চলাচল নিয়ে অতীতেও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি পিকনিকের ট্রলার ডুবে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়। এমন ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা ও অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তদারকি কমে যাওয়ায় আবারও বাল্কহেড চলাচল বেড়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বাল্কহেড চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। এসব নৌযানের ঢেউয়ে ফসলি জমি, মাদ্রাসা ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খালের পাশেই রয়েছে সড়ক, যা ভাঙনের কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খালের তীর রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানান, প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলে অবৈধ বাল্কহেডগুলো সরে যায়। এগুলোর চলাচল বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রামপুলিশ ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে লৌহজংয়ে বাল্কহেডের কারণে ফসলি জমি, বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি রোধ করা যায়।