ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সুখবরের ইঙ্গিত দিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ইতিবাচক ফলাফল দৃশ্যমান হতে শুরু করবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সম্পর্কেও সুখবর আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। সফরের সময় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় শ্রমবাজার, জনশক্তি রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির পথ আরও সুগম হয়েছে। বর্তমানে যেসব বিষয়ে আলোচনা চলছে, সেগুলোর বাস্তব ফলাফল আগামী মাস থেকেই দৃশ্যমান হতে পারে।

আরিফুল হক চৌধুরী আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। তাদের এই সফরের মাধ্যমে চলমান আলোচনা ও সিদ্ধান্তগুলো আরও এগিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন।

প্রবাসী কর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চলমান কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ ও বিশেষ সহায়তাপ্রয়োজন এমন যাত্রীদের জন্য উন্নত লাগেজ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক সেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা যেন বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ব্যবহারকারী বিবেচনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি রাতের ফ্লাইটে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে শিশুদের জন্য একটি আধুনিক ‘কিডস জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। দেশটিতে নতুন করে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে হাজারো কর্মপ্রত্যাশীর কর্মসংস্থানের পথ খুলবে এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে। তাই সরকারের এই ইতিবাচক বার্তা প্রবাসী ও বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, সেবাখাত এবং প্ল্যান্টেশন শিল্পে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। প্রতি বছর মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গত কয়েক বছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কোটা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে শ্রমিক পাঠানো অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে হাজার হাজার কর্মপ্রত্যাশী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে নতুন সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ হতে পারে। এতে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমবে, ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং বৈধ পথে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে দেশের রেমিট্যান্স আয়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে ইতিবাচক খবর এলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো দালাল বা অবৈধ এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ ভুয়া ভিসা ও প্রতারণার ঘটনা অতীতেও বহুবার ঘটেছে।

সমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা চালুর পরিকল্পনা সরকারের বৃহত্তর প্রবাসীবান্ধব নীতির অংশ। লাগেজ সহায়তা, হেল্প ডেস্ক, চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য কিডস জোন চালু হলে প্রবাসী যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হলে শুধু কর্মসংস্থানই বাড়বে না, দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিদেশফেরত রেমিট্যান্স দেশের ভোগব্যয়, বিনিয়োগ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সামনের জুলাই মাস মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে যাচ্ছে। যদি দুই দেশের চলমান আলোচনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে হাজারো বাংলাদেশি কর্মপ্রত্যাশীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে

Update Time : ০৬:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ইতিবাচক ফলাফল দৃশ্যমান হতে শুরু করবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সম্পর্কেও সুখবর আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার (২৪ জুন) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। সফরের সময় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় শ্রমবাজার, জনশক্তি রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির পথ আরও সুগম হয়েছে। বর্তমানে যেসব বিষয়ে আলোচনা চলছে, সেগুলোর বাস্তব ফলাফল আগামী মাস থেকেই দৃশ্যমান হতে পারে।

আরিফুল হক চৌধুরী আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। তাদের এই সফরের মাধ্যমে চলমান আলোচনা ও সিদ্ধান্তগুলো আরও এগিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষ শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন।

আরও পড়ুন  সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মারা গেছেন

প্রবাসী কর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চলমান কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ ও বিশেষ সহায়তাপ্রয়োজন এমন যাত্রীদের জন্য উন্নত লাগেজ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক সেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা যেন বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ব্যবহারকারী বিবেচনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি রাতের ফ্লাইটে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমানবন্দরে শিশুদের জন্য একটি আধুনিক ‘কিডস জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। দেশটিতে নতুন করে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে হাজারো কর্মপ্রত্যাশীর কর্মসংস্থানের পথ খুলবে এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহও আরও শক্তিশালী হবে। তাই সরকারের এই ইতিবাচক বার্তা প্রবাসী ও বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

আরও পড়ুন  যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, সেবাখাত এবং প্ল্যান্টেশন শিল্পে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। প্রতি বছর মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গত কয়েক বছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কোটা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে শ্রমিক পাঠানো অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে হাজার হাজার কর্মপ্রত্যাশী বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে নতুন সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সহজ হতে পারে। এতে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমবে, ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং বৈধ পথে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে দেশের রেমিট্যান্স আয়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন  হঠাৎ বড় সিদ্ধান্ত, প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে ইতিবাচক খবর এলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো দালাল বা অবৈধ এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ ভুয়া ভিসা ও প্রতারণার ঘটনা অতীতেও বহুবার ঘটেছে।

সমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা চালুর পরিকল্পনা সরকারের বৃহত্তর প্রবাসীবান্ধব নীতির অংশ। লাগেজ সহায়তা, হেল্প ডেস্ক, চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য কিডস জোন চালু হলে প্রবাসী যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হলে শুধু কর্মসংস্থানই বাড়বে না, দেশের বেকারত্ব হ্রাস এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিদেশফেরত রেমিট্যান্স দেশের ভোগব্যয়, বিনিয়োগ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

সামনের জুলাই মাস মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে যাচ্ছে। যদি দুই দেশের চলমান আলোচনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে হাজারো বাংলাদেশি কর্মপ্রত্যাশীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।