রুনা লায়লার কনসার্ট ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন উচ্ছ্বাস। দেশের কিংবদন্তি এই শিল্পীর একক সংগীতানুষ্ঠান থেকে টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। আয়োজকদের আশা, সংগীতপ্রেমীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানবিক উদ্যোগটি আরও সফল হবে।
আগামী ২৪ জুলাই রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ আয়োজন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনের জনপ্রিয় ও শ্রোতাপ্রিয় গান পরিবেশন করবেন। একই সঙ্গে তাঁকে বিশেষ সম্মাননাও জানানো হবে।
অনুষ্ঠানের জন্য তিন ধরনের টিকিট নির্ধারণ করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। প্রথম শ্রেণির টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ হাজার টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের দাম ২ হাজার টাকা। টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে, যা বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। এ উদ্যোগকে সংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক সহায়তার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
রুনা লায়লার সংগীতজীবন প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বাংলা, উর্দু, হিন্দি, পাঞ্জাবিসহ মোট ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি সমানভাবে প্রশংসিত। অসংখ্য জনপ্রিয় গান ও অনন্য কণ্ঠের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আসন্ন এই আয়োজন শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়, বরং মানবিক সহায়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও বটে। সংগীত উপভোগের পাশাপাশি বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন দর্শকরা। ফলে সংস্কৃতি ও মানবতার এই মিলিত আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে এবং অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



























