সৌদি হজ কার্যক্রম ২০২৬ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক দিনের কর্মব্যস্ততা পার করেছেন বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। বুধবার সৌদি আরবে পৌঁছে তিনি হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেন। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল হজযাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা।
জেদ্দার রিজ কার্লটন হোটেলে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিভিন্ন দেশের ধর্ম ও হজবিষয়ক মন্ত্রীরা অংশ নেন। বৈঠকে সৌদি হজ ও ওমরাহমন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রবিয়াহ হজ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের সেবা উন্নত করতে দ্রুত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অনুমোদিত পরিবহন ব্যবহার এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো সৌদি সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এরপর ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ ৫০তম গ্র্যান্ড হজ সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই আয়োজনকে হজ ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিনের শেষ ভাগে তিনি মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনের মেডিক্যাল সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সেবার মান বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন তিনি।
সফরের আগে বাংলাদেশ হজ মিশন অফিসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ধর্মমন্ত্রী হজ টিমের সদস্যদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার হজযাত্রীদের সেবা উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।
এই সফরের মাধ্যমে সৌদি হজ কার্যক্রম ২০২৬ আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হজ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর জোর দেওয়ায় ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



























