কুফা ভক্ত টয়া—সামাজিক মাধ্যমে এখন এই নামটিই যেন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। অভিনেত্রী ও মডেল মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া মজার ছলে এমন এক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যা শুনে অনেক ফুটবলপ্রেমীই নিজের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি যে দলকে সমর্থন করেন, সেই দলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছে আর্জেন্টিনার নামও, কারণ তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করবেন।
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে নানা ধরনের বিশ্বাস, কুসংস্কার ও মজার অভ্যাস দেখা যায়। কেউ নির্দিষ্ট জার্সি পরে খেলা দেখেন, কেউ আবার একই জায়গায় বসে পুরো ম্যাচ শেষ করেন। টয়ার অভিজ্ঞতাও অনেকটা তেমনই। তাঁর ভাষ্য, প্রথমে তিনি নিজের প্রিয় দল জার্মানিকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু দলটি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পেরে বিদায় নেয়। এরপর তিনি ব্রাজিলের পক্ষে ছিলেন, কিন্তু সেই দলও টুর্নামেন্টে টিকতে পারেনি।
এরপর জাপানের দারুণ পারফরম্যান্স দেখে তাদের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন টয়া। কিন্তু জাপানের যাত্রাও বেশিদূর এগোয়নি। একের পর এক প্রিয় দলের বিদায় তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছে। যদিও পুরো বিষয়টি তিনি মজার ছলেই বলেছেন, তবুও নিজের অভিজ্ঞতাকে এবার একটি ছোট্ট “নিরীক্ষা” হিসেবে দেখতে চান। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করার পর কী হয়, সেটিই হবে তাঁর পরীক্ষার শেষ ধাপ।
ভিডিও বার্তায় টয়া হাসতে হাসতে বলেন, যদি আর্জেন্টিনাও ফাইনালে উঠতে না পারে কিংবা বিশ্বকাপ জিততে ব্যর্থ হয়, তাহলে তিনি নিজেকে সত্যিকারের “কুফা ভক্ত” হিসেবে মেনে নেবেন। আর যদি সেটিও ঘটে, তাহলে ভবিষ্যতে ফুটবল খেলা দেখা ছেড়ে দেওয়ার কথাও মজার ছলে উল্লেখ করেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, ফুটবল তাঁর ভীষণ প্রিয় একটি খেলা এবং এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য সহজ হবে না।
টয়ার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে নিছক হাস্যরস হিসেবে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ নিজেদের একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথাও মন্তব্যে জানাতে শুরু করেছেন। অনেকে লিখেছেন, তাঁরাও যেই দলকে সমর্থন করেন, সেই দলই অল্প সময়ের মধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। ফলে টয়ার ভিডিও অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছেই বিনোদনের একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
ভিডিওর শেষ অংশে টয়া তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে একটি মজার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি তাঁর মতো আরও কেউ থাকেন, যাঁর সমর্থন করা দল বারবার হেরে যায়, তাহলে মন্তব্যে অবশ্যই জানাতে। এতে অন্তত বোঝা যাবে, তিনি একাই নন; বরং এমন “কুফা ভক্তদের” একটি বড় দলও রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যে অনেকেই ইতোমধ্যে হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তবে বাস্তবতা হলো, কোনো সমর্থকের কারণে কোনো দলের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় না। খেলার ফল নির্ভর করে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, কৌশল, প্রস্তুতি এবং মাঠের পরিস্থিতির ওপর। তবুও ফুটবল ঘিরে এমন মজার বিশ্বাস ও কুসংস্কার বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয়। আর সেই কারণেই টয়ার ভিডিওটি এত দ্রুত দর্শকদের নজর কেড়েছে।
এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করার পর বিশ্বকাপে কী ফল আসে। টয়ার “নিরীক্ষা” সফল হবে, নাকি এটি শুধুই কাকতালীয় ঘটনাগুলোর একটি ধারাবাহিকতা—সেই উত্তর মিলবে মাঠের খেলাতেই। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, তাঁর এই হাস্যরসপূর্ণ স্বীকারোক্তি ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিশ্বকাপের উত্তেজনায় যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।





























