ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক ঠেকাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী নিহত, আশঙ্কাজনক ১

মাদকে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ গেল এইচএসসি পরীক্ষার্থীর।ছবি: সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আহত আব্দুর রহমান (২০) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় গুরুতর আহত তার বড় ভাই মো. হাসান বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

নিহত আব্দুর রহমান উপজেলার ফুলজোর নদীর পশ্চিমপাড় এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফিরোজের ছেলে। তিনি রায়গঞ্জ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে এলাকায় কয়েকজনের মাদক সেবন নিয়ে আপত্তি জানান আব্দুর রহমান ও তার বড় ভাই হাসান। এ নিয়ে স্থানীয় তারা শেখের ছেলে টিটোনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে টিটোন ধারালো বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রথমে আহত দুই ভাইকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আব্দুর রহমানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত একটি হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান।

অপর আহত মো. হাসান এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আব্দুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণেই একজন শিক্ষার্থীকে প্রাণ দিতে হলো, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা বলেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় প্রাণ হারিয়েছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ঠেকাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী নিহত, আশঙ্কাজনক ১

Update Time : ০৮:২০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আহত আব্দুর রহমান (২০) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় গুরুতর আহত তার বড় ভাই মো. হাসান বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

নিহত আব্দুর রহমান উপজেলার ফুলজোর নদীর পশ্চিমপাড় এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফিরোজের ছেলে। তিনি রায়গঞ্জ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে এলাকায় কয়েকজনের মাদক সেবন নিয়ে আপত্তি জানান আব্দুর রহমান ও তার বড় ভাই হাসান। এ নিয়ে স্থানীয় তারা শেখের ছেলে টিটোনের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।

আরও পড়ুন  কানপুরে যমজ কন্যা হত্যা, নিজেই পুলিশে ফোন করলেন বাবা

একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে টিটোন ধারালো বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রথমে আহত দুই ভাইকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আব্দুর রহমানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত একটি হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন  হালুয়াঘাটে ইয়াবা বিক্রি করতে এসে জনতার হাতে আটক স্বামী-স্ত্রী

অপর আহত মো. হাসান এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আব্দুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণেই একজন শিক্ষার্থীকে প্রাণ দিতে হলো, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  কেন্দুয়ায় ৩ মাদকসেবীর কারাদণ্ড, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা বলেন, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় প্রাণ হারিয়েছেন। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব হবে।