ইলন মাস্ক সম্পদ কমল—বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক আবারও বড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছেন। স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেটের সর্বশেষ উৎক্ষেপণ শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়া এবং কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের কারণে মাত্র এক দিনেই তাঁর সম্পদমূল্য প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি বড় একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়। গত কয়েক দিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল। নতুন করে স্টারশিপ উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ায় সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। এর ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়ও প্রভাব পড়ে।
স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের বিপুল পরিমাণ মালিকানা রয়েছে। তাঁর হাতে প্রায় ৪৮০ কোটি শেয়ার এবং অতিরিক্ত কয়েকশ কোটি স্টক অপশন রয়েছে। ফলে শেয়ারের দামে সামান্য পরিবর্তনও তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। সর্বশেষ দরপতনের পর তাঁর সম্পদ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার কমে যায়। পরে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরলে সম্পদের একটি অংশ পুনরুদ্ধার হলেও ক্ষতির পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
তবে এই বড় ক্ষতির পরও ইলন মাস্ক এখনো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ এখনো অন্য সব ধনকুবেরের তুলনায় অনেক বেশি। গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও তাঁদের সম্পদ মাস্কের তুলনায় অনেক কম।
স্টারশিপের ১৩তম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। উৎক্ষেপণের ঠিক আগে ইলন মাস্ক জানান, রকেটের সব ইঞ্জিন স্বাভাবিকভাবে চালু না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়েছে। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আবার নতুন করে উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হতে পারে।
এই ঘোষণার আগে অনেক বিশ্লেষক মনে করেছিলেন, সফল উৎক্ষেপণ স্পেসএক্সের শেয়ারের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দরপতনের পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে শেয়ার কেনার সুযোগ দেখছিলেন। কিন্তু উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ায় সেই প্রত্যাশা ভেঙে যায় এবং বাজারে বিক্রির চাপ আরও বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারশিপ প্রকল্প স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু মহাকাশ গবেষণা নয়, ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, গভীর মহাকাশ অভিযান এবং মঙ্গল গ্রহে মানব মিশনের মতো বড় পরিকল্পনার সঙ্গে এই প্রকল্প জড়িত। ফলে প্রতিটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে স্পেসএক্সের শেয়ার সর্বোচ্চ দামে পৌঁছানোর সময় ইলন মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু বাজারের স্বাভাবিক ওঠানামা এবং সাম্প্রতিক দরপতনের কারণে সেই রেকর্ড এখন অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। গত জুন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে তাঁর সম্পদ কয়েকশ বিলিয়ন ডলার কমে এসেছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলার দিকেও। চলতি মাসেই কোম্পানিটি সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। বিশেষ করে টেসলার রোবোট্যাক্সি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে কী ধরনের বাধার মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা শেয়ারের দামে বড় ভূমিকা রাখে। তাই স্টারশিপের পরবর্তী উৎক্ষেপণ সফল হলে স্পেসএক্সের শেয়ারে আবারও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে নতুন কোনো ব্যর্থতা হলে বাজারে আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, স্টারশিপ উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ার প্রভাব শুধু একটি মহাকাশ প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সম্পদেও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এখন বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তি বিশ্বের নজর আগামী উৎক্ষেপণ এবং টেসলার আর্থিক ফলাফলের দিকেই।

























