ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ঢাবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। বিশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্যাম্পাসে অতিথি ও সাধারণ যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়া অন্যদের প্রবেশ সীমিত রাখা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ২০ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এ সময়ে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহিরাগত প্রবেশ এবং সাধারণ যানবাহনের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড এবং নীলক্ষেত—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে বিশেষ নজরদারি থাকবে। এসব পথ দিয়ে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন এবং জরুরি সেবার যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে।
জরুরি সেবার আওতায় অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক ও রোগীবাহী যান, সাংবাদিকদের যানবাহন, রাইড-শেয়ার সেবা, খাবার সরবরাহকারী যান, অনলাইন শপিং ডেলিভারি বাহন এবং সরকারি যানবাহন চলাচলের অনুমতি থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে সম্ভাব্য ভিড় ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তবে পলাশী থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত সড়কটি সাধারণ যান চলাচলের জন্য খোলা থাকবে। পাশাপাশি গণপরিবহন ও ভারী যানবাহনের প্রবেশে আগের মতো বিদ্যমান বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবাইকে নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে ক্যাম্পাস এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় কোনো আন্তর্জাতিক ইভেন্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ নতুন নয়। শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রশাসন নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে নেওয়া এই সাময়িক ব্যবস্থা নির্ধারিত সময় শেষে তুলে নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।




























