ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রাঙ্গামাটিতে বন্যায় কৃষি-মৎস্যে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি Logo ৬৪ দলের বিশ্বকাপ, কতটা সম্ভব ফিফার নতুন পরিকল্পনা Logo ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ: ৪ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ Logo প্লাস্টিকের ব্যাগে বিশ্বকাপ ট্রফি? কুকুরেয়ার ভিডিওর আসল রহস্য Logo হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা: সৌদির জন্য বড় হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা Logo ধূমপান ছাড়ার ৪ সহজ উপায়, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo চরমোনাই পীরের কড়া বার্তা: ইসলামের নামে একাধিক দল নিয়ে প্রশ্ন Logo ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস, এক রাতেই ফলোয়ারে চমক Logo এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ: ৭ পরিবর্তনে নতুন সম্ভাবনা Logo ঘুম না এলে রাতে করুন এই ৭ ব্যায়াম, মিলবে স্বস্তির ঘুম

‘টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা’

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতারাছবি: সংগৃহীত

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভ করেছেন এক ভুক্তভোগী। টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা শিরোনামে প্রচারিত ওই লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময়ে অফিস তালাবদ্ধ থাকায় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের ভিড় ছিল। কিন্তু অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় কেউ সেবা নিতে পারেননি।

এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম পরিষদে এসে পরিস্থিতি দেখে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) শুরু করেন।

লাইভে তিনি তালাবদ্ধ অফিস, অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতা এবং তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল— কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়—

  1. ইউনিয়ন পরিষদের অফিস নির্ধারিত সময়েও তালাবদ্ধ।
  2. নারী, পুরুষ ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সেবা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
  3. কয়েকজন সেবাগ্রহীতা দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে হয়রানির অভিযোগ করেন।
  4. কেউ কেউ দাবি করেন, দ্রুত কাজ করাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়, আর না দিলে “সার্ভার ডাউন” বা “নেটওয়ার্ক সমস্যা”র কথা বলা হয়।

তবে ভিডিওতে করা এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভিডিও ধারণ চলাকালীনই লাইভকারী জানান, তিনি বিষয়টি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেন। তার দাবি, ইউএনও তাকে লাইভ বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

এর কিছুক্ষণ পর, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিব কার্যালয়ে পৌঁছান। তারা অফিসে প্রবেশের সময় লাইভকারী বিভিন্ন প্রশ্ন করলে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়।

লাইভটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক হাজার মানুষ ভিডিওটি দেখেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

অনেকে ইউনিয়ন পরিষদে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভাইরাল ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভিডিওতে উত্থাপিত টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা—এ ধরনের অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও, অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো সরকারি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙ্গামাটিতে বন্যায় কৃষি-মৎস্যে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি

‘টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা’

Update Time : ০৮:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভ করেছেন এক ভুক্তভোগী। টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা শিরোনামে প্রচারিত ওই লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত সময়ে অফিস তালাবদ্ধ থাকায় বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের ভিড় ছিল। কিন্তু অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় কেউ সেবা নিতে পারেননি।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম পরিষদে এসে পরিস্থিতি দেখে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) শুরু করেন।

লাইভে তিনি তালাবদ্ধ অফিস, অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতা এবং তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল— কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়—

  1. ইউনিয়ন পরিষদের অফিস নির্ধারিত সময়েও তালাবদ্ধ।
  2. নারী, পুরুষ ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সেবা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
  3. কয়েকজন সেবাগ্রহীতা দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে হয়রানির অভিযোগ করেন।
  4. কেউ কেউ দাবি করেন, দ্রুত কাজ করাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়, আর না দিলে “সার্ভার ডাউন” বা “নেটওয়ার্ক সমস্যা”র কথা বলা হয়।
আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি

তবে ভিডিওতে করা এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভিডিও ধারণ চলাকালীনই লাইভকারী জানান, তিনি বিষয়টি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেন। তার দাবি, ইউএনও তাকে লাইভ বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসককে পাঠানোর আশ্বাস দেন।

এর কিছুক্ষণ পর, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিব কার্যালয়ে পৌঁছান। তারা অফিসে প্রবেশের সময় লাইভকারী বিভিন্ন প্রশ্ন করলে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়।

লাইভটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক হাজার মানুষ ভিডিওটি দেখেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন  জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস কর্মসূচি: শক্তিশালী প্রস্তুতিতে সরকার

অনেকে ইউনিয়ন পরিষদে সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভাইরাল ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভিডিওতে উত্থাপিত টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা—এ ধরনের অভিযোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও, অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো সরকারি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।