ঢাকা ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সরোয়ারের প্রার্থিতা মামলা: ২৭ জুলাই শুনানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত Logo ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার রায়: হত্যাকাণ্ডেও থামেনি ছাত্র আন্দোলন Logo ‘দ্য ওডিসি’র ঝড়ের মাঝে নোলানের বড় সিদ্ধান্ত,বানাবেন না নতুন সিনেমা Logo আর্লিং হলান্ডের হাঁটা নকল করলেন বিটিএস তারকা জিমিন Logo মার্জিন ঋণে নতুন নিয়ম, ইক্যুইটি ৫০% কমলেই শেয়ার বিক্রি Logo পল্লী উন্নয়ন বোর্ড নিয়োগ: ৯ম-২০তম গ্রেডে ১৮৫ পদে আবেদন শুরু Logo ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল আসছে, আগেই প্রকাশের ইঙ্গিত পিএসসির Logo পাবনার হোসিয়ারিশিল্প সংকটে, ভারত রপ্তানি বন্ধে বন্ধ হচ্ছে কারখানা Logo জয়া আহসানের নতুন সিনেমা | ভারতীয় সমালোচকদের দুর্দান্ত প্রশংসায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ Logo স্বর্ণের দাম বেড়েছে: ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা

সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু

সুদানের গৃহযুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত জনপদ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, লাখো মানুষ জীবন হারানোর পাশাপাশি কোটি কোটি মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দেশের অধিকাংশ এলাকায় সরকারি সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার নারী ও শিশুরা। হাজার হাজার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে এবং অনেকেই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুদানের যুদ্ধ এখন আর শুধু স্থলভিত্তিক নয়। উভয় পক্ষই নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং হামলার জন্য ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে যুদ্ধের পরিধি শহর, গ্রাম, বাজার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক অবকাঠামো পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সুদানের কৃষি, শিল্প, ব্যাংকিং, পরিবহন এবং বাণিজ্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, আরব লীগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংঘাতরত উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে সুদানের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও শরণার্থী সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরোয়ারের প্রার্থিতা মামলা: ২৭ জুলাই শুনানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু

Update Time : ০৪:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া সুদানের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, লাখো মানুষ জীবন হারানোর পাশাপাশি কোটি কোটি মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দেশের অধিকাংশ এলাকায় সরকারি সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার নারী ও শিশুরা। হাজার হাজার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে এবং অনেকেই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সুদানের যুদ্ধ এখন আর শুধু স্থলভিত্তিক নয়। উভয় পক্ষই নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং হামলার জন্য ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে যুদ্ধের পরিধি শহর, গ্রাম, বাজার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক অবকাঠামো পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সুদানের কৃষি, শিল্প, ব্যাংকিং, পরিবহন এবং বাণিজ্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

জাতিসংঘ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, আরব লীগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সংঘাতরত উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে সুদানের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও শরণার্থী সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।