সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের ফলে গৃহকর্মীদের আবাসিক অনুমতির (ইকামা) মেয়াদ এখন চাকরির চুক্তি, নিয়োগের ধরন এবং পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহজে নির্ধারণ করা যাবে। ফলে নিয়োগকর্তা ও কর্মী—উভয় পক্ষই প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারবেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেয়।‘ওকাজ’ পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগকর্তারা গৃহকর্মী এবং সমমানের অন্যান্য ক্যাটাগরিতে কর্মরত কর্মীদের জন্য ৩, ৬, ৯, ১২, ১৫, ১৮, ২১ বা ২৪ মাসের আবাসিক মেয়াদের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। ‘আবসের’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই পারমিটগুলো জারি বা নবায়ন করা যাবে।
এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগকর্তাদের একসঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ফি পরিশোধ করতে হবে না।
নতুন নিয়মটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে। নিয়োগকর্তারা আবশের (Absher) প্ল্যাটফর্মে লগইন করে ইকামা নবায়নের আবেদন, মেয়াদ নির্বাচন, ফি পরিশোধ এবং অনুমোদনের মতো পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে সরকারি অফিসে গিয়ে আলাদা আবেদন করার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে গৃহকর্মী নিয়োগে ব্যয় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। আগে এক বা দুই বছরের ইকামা একসঙ্গে নবায়ন করতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হতো। এখন তিন মাস বা তার গুণিতক মেয়াদ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকায় নিয়োগকর্তারা কিস্তিভিত্তিক ব্যয়ের মতো সুবিধা পাবেন, যা অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক চাপ কমাবে।
এছাড়া যেসব পরিবার অল্প সময়ের জন্য গৃহকর্মী নিয়োগ দেয় বা মৌসুমি প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী রাখে, তাদের জন্য নতুন ব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর হবে। প্রয়োজন শেষ হলে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি ইকামার খরচ বহন করতে হবে না।
সৌদি সরকার বলছে, এই পদক্ষেপ দেশটির ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কর্মসূচি এবং ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ। সরকারি সেবা দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ই-সেবা চালু করা হচ্ছে। আবশের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পাসপোর্ট, ভিসা, এক্সিট-রিএন্ট্রি, জাতীয় পরিচয়সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এবং ইকামা ব্যবস্থাপনাসহ শতাধিক সরকারি সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে।
মানবসম্পদ খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন নিয়ম গৃহকর্মী খাতে কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে আরও নমনীয় করবে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের নিয়মিতভাবে ইকামার মেয়াদ পর্যবেক্ষণ ও সময়মতো নবায়নের প্রবণতা বাড়বে, ফলে অবৈধ অবস্থানের ঝুঁকিও কমবে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের লাখো গৃহকর্মী কর্মরত রয়েছেন। নতুন এই নীতির সুবিধা এসব দেশের কর্মী ও তাদের নিয়োগকর্তারাও পাবেন। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি গৃহকর্মীর জন্য এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইকামা নবায়নের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রচলিত শর্ত—যেমন বৈধ কর্মচুক্তি, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, বকেয়া সরকারি ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ—আগের মতোই কার্যকর থাকবে। নতুন নিয়ম কেবল ইকামার মেয়াদ নির্ধারণ ও ফি পরিশোধে অধিক নমনীয়তা যোগ করেছে।





























