ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাঈদ আল নোমানের বৈঠক Logo ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, দুই দিনেই প্রাণ গেল ১০ জনের Logo বেতন বাড়ল দ্বিগুণেরও বেশি: নবম পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত পাবেন, দেখুন পূর্ণ তালিকা Logo ধূমপান ও রান্নার ধোঁয়ায় নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস Logo ই-পেমেন্ট ক্রেডিটে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা Logo ভিসাবিহীন বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন Logo সবুজবাগে কাতার প্রবাসী যুবক হত্যা, বান্ধবীর বাসায় কী ঘটেছিল Logo সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও থাকবে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার Logo চন্দনাইশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ২য় বর্ষপূতি উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা Logo পুতিনের পর জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের দুই দূত

প্রবাসী আয় উৎস: সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫১

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী রেমিট্যান্স প্রবাহ। | ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী আয় উৎস হিসেবে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশে আসা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে এই পাঁচ দেশ থেকেই।জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকেই এসেছে প্রায় ৫২৮ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে প্রায় ৪৬৯ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে প্রায় ৪২৮ কোটি ডলার। মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে।

ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর এবং ইতালিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী আয় উৎস হিসেবে রয়েছে। এই ছয় দেশ মিলিয়ে ১১ মাসে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার দেশে এসেছে। ফলে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে মাত্র ১১টি দেশ থেকে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এসব দেশের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।মে মাসের চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘ ১০ মাস সৌদি আরব শীর্ষে থাকলেও মে মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। ওই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে আসে প্রায় ৬৫ কোটি ডলার, যেখানে সৌদি আরব থেকে আসে প্রায় ৫৫ কোটি ডলার। ইউএই ছিল তৃতীয় অবস্থানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আয় ও কর্মসংস্থান তুলনামূলক স্থিতিশীল হওয়ায় সেখান থেকে নিয়মিত অর্থ দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা চালু রেখেছে। এতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে এবং হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যমের ব্যবহার কমছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থ পাঠানো আগের তুলনায় সহজ হওয়ায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয় উৎস থেকে আসা অর্থপ্রবাহে।অর্থনীতিবিদদের মতে, মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশ মাত্র কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে পরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা বা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এতে প্রবাসী আয় উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাঈদ আল নোমানের বৈঠক

প্রবাসী আয় উৎস: সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান

Update Time : ১০:৪১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রবাসী আয় উৎস হিসেবে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশে আসা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৬২ শতাংশ এসেছে এই পাঁচ দেশ থেকেই।জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকেই এসেছে প্রায় ৫২৮ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে প্রায় ৪৬৯ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে প্রায় ৪২৮ কোটি ডলার। মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে।

ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর এবং ইতালিও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী আয় উৎস হিসেবে রয়েছে। এই ছয় দেশ মিলিয়ে ১১ মাসে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার দেশে এসেছে। ফলে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৯০ শতাংশ এসেছে মাত্র ১১টি দেশ থেকে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এসব দেশের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।মে মাসের চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। দীর্ঘ ১০ মাস সৌদি আরব শীর্ষে থাকলেও মে মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। ওই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে আসে প্রায় ৬৫ কোটি ডলার, যেখানে সৌদি আরব থেকে আসে প্রায় ৫৫ কোটি ডলার। ইউএই ছিল তৃতীয় অবস্থানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আয় ও কর্মসংস্থান তুলনামূলক স্থিতিশীল হওয়ায় সেখান থেকে নিয়মিত অর্থ দেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা চালু রেখেছে। এতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে এবং হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যমের ব্যবহার কমছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থ পাঠানো আগের তুলনায় সহজ হওয়ায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয় উৎস থেকে আসা অর্থপ্রবাহে।অর্থনীতিবিদদের মতে, মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশ মাত্র কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে পরিবর্তন, অর্থনৈতিক মন্দা বা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এতে প্রবাসী আয় উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।