ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জরুরি পদত্যাগপত্র: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন পদত্যাগ করলেন? Logo কাজাখস্তানকে হারিয়ে চমক, কাভা চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয় Logo শহুরে সুপারশপে কাউফল, জানুন চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা Logo এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে সরাসরি শেষ আটে বাংলাদেশ Logo ঘরেই বানান মুচমুচে ডিম চপ, জেনে নিন সহজ রেসিপি Logo পিটিশনে ৯৫ হাজার সই, পরাজয় মেনে নিতে বললেন এফএ সভাপতি Logo বেলুচি চিকেন কড়াই রেসিপি: কম মসলায় দারুণ স্বাদ Logo গ্যাস-অ্যাসিডিটি থেকে স্বস্তি পেতে আদা কতটা উপকারী, জানালেন পুষ্টিবিদ Logo গর্ভাবস্থায় উড়োজাহাজে ভ্রমণ নিরাপদ? জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ Logo ঘরেই বানান রেস্টুরেন্ট-স্টাইল চিকেন মিট বক্স, স্বাদে সবাই হবে মুগ্ধ

গ্যাস-অ্যাসিডিটি থেকে স্বস্তি পেতে আদা কতটা উপকারী, জানালেন পুষ্টিবিদ

হজমে স্বস্তি, গ্যাসে আরাম—আদার আসল ভূমিকা।

গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন সকালে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেলে গ্যাস-অ্যাসিডিটি কমে—এমন দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞ? কলকাতার পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদারের মতে, আদা হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক হলেও এটি কোনো জাদুকরি সমাধান নয়। সঠিক পরিমাণে ও নিয়ম মেনে খেলে আদা গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এবং মানসিক চাপের কারণে অনেকেই নিয়মিত গ্যাস, বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন। সাময়িক স্বস্তির জন্য অনেক সময় ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। সেই তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম ভেষজ উপাদান হিসেবে পরিচিত আদা।

পুষ্টিগুণে ভরপুর আদা

পুষ্টিবিদদের মতে, আদা শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, এটি শরীরের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।

আদায় রয়েছে—

  • ভিটামিন বি৩ ও বি৬
  • ভিটামিন সি
  • আয়রন
  • পটাশিয়াম
  • ম্যাগনেশিয়াম
  • ফসফরাস
  • জিঙ্ক
  • ফোলেট
  • রাইবোফ্ল্যাভিন
  • নিয়াসিন
  • শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ্যাস-অ্যাসিডিটি কমাতে কীভাবে কাজ করে আদা?

পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদারের ভাষ্য অনুযায়ী, আদায় থাকা প্রাকৃতিক কিছু রাসায়নিক উপাদান হজমপ্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। খাবার দ্রুত হজম হলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হওয়ার প্রবণতাও কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আদা—

  • হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • গ্যাস জমার প্রবণতা কমাতে পারে।
  • পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমাতে সহায়ক।
  • হালকা পেটব্যথা উপশমে ভূমিকা রাখতে পারে।
  • বুকজ্বালার ঝুঁকি কিছু ক্ষেত্রে কমাতে সাহায্য করে।

তবে যাদের দীর্ঘদিনের আলসার, তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্য কোনো জটিল গ্যাস্ট্রিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত আদা খাওয়া উচিত নয়।

কাঁচা আদা নাকি রান্নায় আদা—কোনটি ভালো?

অনেকেই সকালে খালি পেটে কাঁচা আদা খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য এটি উপযোগী নয়।

তাদের পরামর্শ হলো—

  • ভালো মানের তাজা আদা হলে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
  • প্রতিদিন বেশি পরিমাণে কাঁচা আদা খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
  • রান্নায় নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ আদা ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
  • ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় আদার পরিমাণ বাড়ালে হজমের উন্নতি হতে পারে।

শুধু আদা খেলেই কি গ্যাসের সমস্যা দূর হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যার মূল কারণ যদি খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে শুধু আদা খেলেই স্থায়ী সমাধান মিলবে না।

গ্যাস কমাতে যেসব অভ্যাস জরুরি—

  • নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া।
  • অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলা।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা।
  • ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়া।
  • খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়া।
  • নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা।

বমিভাব কমাতেও কার্যকর

আদায় থাকা জিঞ্জেরল (Gingerol) নামের সক্রিয় উপাদান বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষ করে—

  • গর্ভাবস্থায় বমিভাব কমাতে (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
  • কেমোথেরাপির পর বমিভাব নিয়ন্ত্রণে
  • ভ্রমণজনিত বমি কমাতে

এসব ক্ষেত্রে আদা উপকারী হতে পারে।

ক্যানসার প্রতিরোধে সম্ভাবনা

গবেষণায় দেখা গেছে, আদায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে, তবে এটিকে কোনো চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী

পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণ আদা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প হিসেবে আদা ব্যবহার করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত আদা খাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে

আদা উপকারী হলেও অতিরিক্ত খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

যেমন—

  • বুকজ্বালা বাড়তে পারে।
  • মুখ ও গলায় জ্বালাপোড়া হতে পারে।
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
  • কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে।

তাই প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে আদা খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

পুষ্টিবিদদের মতে, আদা হজমশক্তি উন্নত করতে এবং গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে নিজে নিজে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপনই এ ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জরুরি পদত্যাগপত্র: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কেন পদত্যাগ করলেন?

গ্যাস-অ্যাসিডিটি থেকে স্বস্তি পেতে আদা কতটা উপকারী, জানালেন পুষ্টিবিদ

Update Time : ০৭:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন সকালে কাঁচা আদা চিবিয়ে খেলে গ্যাস-অ্যাসিডিটি কমে—এমন দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞ? কলকাতার পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদারের মতে, আদা হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক হলেও এটি কোনো জাদুকরি সমাধান নয়। সঠিক পরিমাণে ও নিয়ম মেনে খেলে আদা গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এবং মানসিক চাপের কারণে অনেকেই নিয়মিত গ্যাস, বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন। সাময়িক স্বস্তির জন্য অনেক সময় ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও বিশেষজ্ঞরা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। সেই তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম ভেষজ উপাদান হিসেবে পরিচিত আদা।

পুষ্টিগুণে ভরপুর আদা

পুষ্টিবিদদের মতে, আদা শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, এটি শরীরের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।

আদায় রয়েছে—

  • ভিটামিন বি৩ ও বি৬
  • ভিটামিন সি
  • আয়রন
  • পটাশিয়াম
  • ম্যাগনেশিয়াম
  • ফসফরাস
  • জিঙ্ক
  • ফোলেট
  • রাইবোফ্ল্যাভিন
  • নিয়াসিন
  • শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ্যাস-অ্যাসিডিটি কমাতে কীভাবে কাজ করে আদা?

পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদারের ভাষ্য অনুযায়ী, আদায় থাকা প্রাকৃতিক কিছু রাসায়নিক উপাদান হজমপ্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। খাবার দ্রুত হজম হলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হওয়ার প্রবণতাও কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আদা—

  • হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • গ্যাস জমার প্রবণতা কমাতে পারে।
  • পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি কমাতে সহায়ক।
  • হালকা পেটব্যথা উপশমে ভূমিকা রাখতে পারে।
  • বুকজ্বালার ঝুঁকি কিছু ক্ষেত্রে কমাতে সাহায্য করে।

তবে যাদের দীর্ঘদিনের আলসার, তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্য কোনো জটিল গ্যাস্ট্রিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত আদা খাওয়া উচিত নয়।

কাঁচা আদা নাকি রান্নায় আদা—কোনটি ভালো?

অনেকেই সকালে খালি পেটে কাঁচা আদা খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য এটি উপযোগী নয়।

তাদের পরামর্শ হলো—

  • ভালো মানের তাজা আদা হলে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
  • প্রতিদিন বেশি পরিমাণে কাঁচা আদা খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
  • রান্নায় নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ আদা ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
  • ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় আদার পরিমাণ বাড়ালে হজমের উন্নতি হতে পারে।

শুধু আদা খেলেই কি গ্যাসের সমস্যা দূর হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যার মূল কারণ যদি খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে শুধু আদা খেলেই স্থায়ী সমাধান মিলবে না।

গ্যাস কমাতে যেসব অভ্যাস জরুরি—

  • নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া।
  • অতিরিক্ত তেল-ঝাল ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলা।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করা।
  • ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়া।
  • খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়া।
  • নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা।

বমিভাব কমাতেও কার্যকর

আদায় থাকা জিঞ্জেরল (Gingerol) নামের সক্রিয় উপাদান বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষ করে—

  • গর্ভাবস্থায় বমিভাব কমাতে (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
  • কেমোথেরাপির পর বমিভাব নিয়ন্ত্রণে
  • ভ্রমণজনিত বমি কমাতে

এসব ক্ষেত্রে আদা উপকারী হতে পারে।

ক্যানসার প্রতিরোধে সম্ভাবনা

গবেষণায় দেখা গেছে, আদায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে, তবে এটিকে কোনো চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী

পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণ আদা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প হিসেবে আদা ব্যবহার করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত আদা খাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে

আদা উপকারী হলেও অতিরিক্ত খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

যেমন—

  • বুকজ্বালা বাড়তে পারে।
  • মুখ ও গলায় জ্বালাপোড়া হতে পারে।
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
  • কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে।

তাই প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে আদা খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

পুষ্টিবিদদের মতে, আদা হজমশক্তি উন্নত করতে এবং গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে নিজে নিজে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপনই এ ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।