ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ দাবি ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি তাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি। দলটি সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে আবারও ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি শুরু করা হবে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ বা তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক চালিয়ে গেলেও পদত্যাগের প্রশ্নে এখনো অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সরকারের দাবি, কোনো আন্দোলনের চাপে মন্ত্রী অপসারণ করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের আরও দাবি উঠতে পারে, যা প্রশাসনের জন্য ভুল নজির হয়ে দাঁড়াবে। তবে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে বড় ধরনের সংস্কার শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট—শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া নিট ইস্যুতে সংসদে স্বাভাবিক আলোচনা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আরও কঠোর আইন আনার ঘোষণা দিয়েছেন। দ্রুত বিচার, বড় অঙ্কের জরিমানা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটার সম্ভাবনা খুবই কম।


























