ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo আমগাছ কাটার নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাঃরাতের আধারে নবাবগঞ্জে আম বাগান ধ্বংস Logo রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ে আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না বিএনপি Logo গ্রিনল্যান্ড হাঙর: অবিশ্বাস্য ৪০০ বছরের জীবনের রহস্য জানুন Logo ফ্যাসিবাদের শিকড় বাহাত্তরের সংবিধানে, দাবি ড. দিলারা চৌধুরীর Logo ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনের নতুন দায়িত্ব: বঙ্গভবনে অফিস, স্পিকারের বাসভবনে অবস্থান Logo রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ৭ সহজ ও কার্যকর টিপস Logo সবুজ স্বর্গ নরওয়ে কেন বিদেশি বর্জ্য কিনে আনে? Logo মসুর ডালের সালাদ: প্রোটিনসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ও সহজ রেসিপি Logo স্যামসাংয়ের নজিরের পর বাড়তি বোনাস দাবি, উত্তাল দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার

ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ভোটের কৌশল হিসেবে ব্যবহার না করে জনকল্যাণ, সুশাসন এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন বা ভোটের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে। তাই উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং সুশাসনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একজন মানুষের রক্তের রং যেমন ধর্মভেদে পরিবর্তিত হয় না, তেমনি নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে না। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদা ও অধিকার পাওয়ার যোগ্য।

তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে সবার আগে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং মানবিক আচরণই একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি।

দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার দাবি জানাতে হবে—এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে নিরাপদ মনে করবেন এবং স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত উদ্যোগে অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

Update Time : ১০:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ভোটের কৌশল হিসেবে ব্যবহার না করে জনকল্যাণ, সুশাসন এবং মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন বা ভোটের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা সৃষ্টি করে। তাই উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং সুশাসনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  বৃষ্টির সময় যে দোয়া পড়বেন, জেনে নিন সুন্নাহর আমল

তিনি বলেন, সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সুশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেক নাগরিক যেন কোনো ভয় বা বাধা ছাড়াই নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, একজন মানুষের রক্তের রং যেমন ধর্মভেদে পরিবর্তিত হয় না, তেমনি নাগরিক অধিকারও ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে না। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদা ও অধিকার পাওয়ার যোগ্য।

আরও পড়ুন  নামাজে সালাম ফেরানোর সঠিক নিয়ম ও সুন্নাহ পদ্ধতি

তিনি উল্লেখ করেন, সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে সবার আগে মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং মানবিক আচরণই একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি।

দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার দাবি জানাতে হবে—এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাভাবিকভাবেই নিজেকে নিরাপদ মনে করবেন এবং স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন  মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত উদ্যোগে অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।