ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সূর্যগ্রহণ দেখতে দুই বছর আগেই হোটেল বুকিং! কেন এত আগ্রহ?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৩

৮৫০ বছর পর বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ! তাই দুই বছর আগেই হোটেল বুকিং শুরু।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে এখনো প্রায় দুই বছর বাকি। তবুও বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা ঘিরে নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের শহর ডানেডিনে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ২০২৮ সালের ২২ জুলাই সেখানে দেখা যাবে বহু প্রতীক্ষিত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। আর সেই বিরল দৃশ্য উপভোগ করতে পর্যটকেরা এখন থেকেই হোটেল বুকিং করছেন। ইতোমধ্যে শহরের একটি হোটেল পুরোপুরি বুকড হয়ে গেছে।

জানা গেছে, ২০২৮ সালের ২২ জুলাই বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটে দক্ষিণ নিউজিল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। গ্রহণের সময় প্রায় ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ড দিনের আলো পুরোপুরি ঢেকে যাবে এবং চারপাশে নেমে আসবে অন্ধকার। দেশটির অন্যান্য অঞ্চল থেকেও আংশিক বা উল্লেখযোগ্যভাবে এই সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬৫ সালের পর এই প্রথমবার পুরো নিউজিল্যান্ড থেকে একই দিনে সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে ডানেডিন শহরের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ, এই শহর থেকে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ১১৬৩ সালে, অর্থাৎ প্রায় ৮৫০ বছরেরও বেশি আগে। সে সময় নিউজিল্যান্ডে মানুষের বসতি পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি।

ডানেডিনের তুহুরা ওটাগো মিউজিয়ামের পরিচালক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়ান গ্রিফিন বলেন, ডানেডিনের বর্তমান বাসিন্দাদের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁর ভাষায়, এই শহর থেকে প্রথমবারের মতো মানুষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে। তাই ঘটনাটি বিজ্ঞানপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে রোমাঞ্চকর।

এই গ্রহণ নিয়ে ইয়ান গ্রিফিনের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। শুধু এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার জন্যই তিনি ২০১৩ সালে ডানেডিন শহরে একটি বাড়ি কিনেছিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তই বোঝায়, বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি কতটা গুরুত্ব বহন করে। সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে গবেষক ও পর্যটকদের আগ্রহ দিন দিন আরও বাড়ছে।

এই আগ্রহের প্রভাব ইতোমধ্যেই স্থানীয় পর্যটন খাতে পড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহেই ডানেডিন লেজার লজ নামের একটি হোটেলের সব কক্ষ বুক হয়ে গেছে। সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে বিশেষ প্যাকেজও ঘোষণা করেছে হোটেলটি। ওই প্যাকেজে অতিথিদের জন্য গ্রহণ নিরাপদে দেখার বিশেষ চশমার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শুধু একটি হোটেল নয়, শহরের অন্যান্য আবাসনেও আগাম বুকিংয়ের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, ২০২৮ সালের সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে প্রায় ৩৫ হাজার অতিরিক্ত দর্শনার্থী ডানেডিনে ভিড় করবেন। ফলে পর্যটন, ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ডানেডিন মিউজিয়ামে সূর্যগ্রহণের কাউন্টডাউনও শুরু হয়েছে। বিশেষ ডিজিটাল গণনার মাধ্যমে গ্রহণ শুরু হওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত সময় গণনা করা হবে। শহরের মেয়র সোফি বার্কার বলেন, সূর্যগ্রহণকে ঘিরে পুরো শহরে এখন থেকেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্যতম বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য ডানেডিনকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সূর্যগ্রহণ দেখতে দুই বছর আগেই হোটেল বুকিং! কেন এত আগ্রহ?

Update Time : ০১:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে এখনো প্রায় দুই বছর বাকি। তবুও বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা ঘিরে নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের শহর ডানেডিনে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ২০২৮ সালের ২২ জুলাই সেখানে দেখা যাবে বহু প্রতীক্ষিত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। আর সেই বিরল দৃশ্য উপভোগ করতে পর্যটকেরা এখন থেকেই হোটেল বুকিং করছেন। ইতোমধ্যে শহরের একটি হোটেল পুরোপুরি বুকড হয়ে গেছে।

জানা গেছে, ২০২৮ সালের ২২ জুলাই বিকেল ৪টা ১৭ মিনিটে দক্ষিণ নিউজিল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। গ্রহণের সময় প্রায় ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ড দিনের আলো পুরোপুরি ঢেকে যাবে এবং চারপাশে নেমে আসবে অন্ধকার। দেশটির অন্যান্য অঞ্চল থেকেও আংশিক বা উল্লেখযোগ্যভাবে এই সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬৫ সালের পর এই প্রথমবার পুরো নিউজিল্যান্ড থেকে একই দিনে সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে ডানেডিন শহরের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ, এই শহর থেকে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ১১৬৩ সালে, অর্থাৎ প্রায় ৮৫০ বছরেরও বেশি আগে। সে সময় নিউজিল্যান্ডে মানুষের বসতি পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি।

ডানেডিনের তুহুরা ওটাগো মিউজিয়ামের পরিচালক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইয়ান গ্রিফিন বলেন, ডানেডিনের বর্তমান বাসিন্দাদের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তাঁর ভাষায়, এই শহর থেকে প্রথমবারের মতো মানুষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে। তাই ঘটনাটি বিজ্ঞানপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে রোমাঞ্চকর।

এই গ্রহণ নিয়ে ইয়ান গ্রিফিনের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। শুধু এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার জন্যই তিনি ২০১৩ সালে ডানেডিন শহরে একটি বাড়ি কিনেছিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তই বোঝায়, বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি কতটা গুরুত্ব বহন করে। সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্র করে গবেষক ও পর্যটকদের আগ্রহ দিন দিন আরও বাড়ছে।

এই আগ্রহের প্রভাব ইতোমধ্যেই স্থানীয় পর্যটন খাতে পড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহেই ডানেডিন লেজার লজ নামের একটি হোটেলের সব কক্ষ বুক হয়ে গেছে। সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে বিশেষ প্যাকেজও ঘোষণা করেছে হোটেলটি। ওই প্যাকেজে অতিথিদের জন্য গ্রহণ নিরাপদে দেখার বিশেষ চশমার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শুধু একটি হোটেল নয়, শহরের অন্যান্য আবাসনেও আগাম বুকিংয়ের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, ২০২৮ সালের সূর্যগ্রহণ উপলক্ষে প্রায় ৩৫ হাজার অতিরিক্ত দর্শনার্থী ডানেডিনে ভিড় করবেন। ফলে পর্যটন, ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ডানেডিন মিউজিয়ামে সূর্যগ্রহণের কাউন্টডাউনও শুরু হয়েছে। বিশেষ ডিজিটাল গণনার মাধ্যমে গ্রহণ শুরু হওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত সময় গণনা করা হবে। শহরের মেয়র সোফি বার্কার বলেন, সূর্যগ্রহণকে ঘিরে পুরো শহরে এখন থেকেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্যতম বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য ডানেডিনকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে।