ঢাকা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান Logo ৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা নয়, প্রতিরোধের ডাক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল Logo ছোট আঁচড়, বড় বিপদ! পোষা প্রাণীর কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি Logo রাকসু ভিপি সাংবাদিকদের সতর্কবার্তা দিলেন Logo চট্টগ্রাম ওয়াসা: সিস্টেম লসে ৭৮ কোটি টাকার পানি Logo আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সঞ্চয়পত্র, বাড়ছে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ Logo কুমিল্লা মাদক ধ্বংস: বিজিবির বড় অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯২ লাখ টাকার সোনার বার উদ্ধার Logo সকালের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত Logo ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নিবাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রবিবার

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত সারজিস-পাটওয়ারী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫২১

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার পর ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি | ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই জাগরণ কর্মসূচি শেষে শহরের একটি এলাকায় সার্কিট হাউসে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ এনসিপির নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও হামলায় এনসিপির নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

দিনের শুরুতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে জুলাই জাগরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম বক্তব্য দেন। পরে হবিগঞ্জ শহরেও দলটির কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষ করে নেতাকর্মীরা সার্কিট হাউসের দিকে ফেরার সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় গাড়িবহরকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলা
হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত | ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় শুধু দলটির নেতাকর্মীরাই নয়, তাদের মিডিয়া টিমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের একটি মিডিয়া টিমের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও তাদের কাছে এসেছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হামলায় কারা সরাসরি জড়িত এবং ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট কী—তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

হামলার পর এনসিপির নেতারা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করার অভিযোগ তোলেন। সারজিস আলম অভিযোগ করেন, হামলার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাদের বক্তব্য উসকানিমূলক ছিল এবং তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় জনতা জড়ো হয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত বা চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনার আগে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। সারজিস আলমও রাজনৈতিক সহিংসতা ও অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যের পর বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময়ই হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে সংঘাতের ঘটনায় রূপ নেয় বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে। হামলায় আহত সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যদের চিকিৎসা ও পরবর্তী অবস্থার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা হামলায় জড়িত এবং হামলার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত যেন আরও না বাড়ে, সে জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ঘটনাটির পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আইনগত পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান

এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, আহত সারজিস-পাটওয়ারী

Update Time : ১১:০২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই জাগরণ কর্মসূচি শেষে শহরের একটি এলাকায় সার্কিট হাউসে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ এনসিপির নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও হামলায় এনসিপির নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

দিনের শুরুতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে জুলাই জাগরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম বক্তব্য দেন। পরে হবিগঞ্জ শহরেও দলটির কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষ করে নেতাকর্মীরা সার্কিট হাউসের দিকে ফেরার সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় গাড়িবহরকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ভাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলা
হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আহত | ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় শুধু দলটির নেতাকর্মীরাই নয়, তাদের মিডিয়া টিমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের একটি মিডিয়া টিমের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও তাদের কাছে এসেছে বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে হামলায় কারা সরাসরি জড়িত এবং ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট কী—তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

হামলার পর এনসিপির নেতারা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করার অভিযোগ তোলেন। সারজিস আলম অভিযোগ করেন, হামলার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাদের বক্তব্য উসকানিমূলক ছিল এবং তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় জনতা জড়ো হয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত বা চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন  ছাত্রদলের মামলায় ইমাম তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ঘটনার আগে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান এবং সীমান্ত সুরক্ষার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। সারজিস আলমও রাজনৈতিক সহিংসতা ও অতীতের ঘটনাগুলোর বিচার নিয়ে বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যের পর বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কর্মসূচি শেষ করে ফেরার সময়ই হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে সংঘাতের ঘটনায় রূপ নেয় বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন  সব দল বলতে কি আওয়ামী লীগকেও বোঝানো হয়েছে? প্রশ্ন সারজিসের

এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে। হামলায় আহত সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যদের চিকিৎসা ও পরবর্তী অবস্থার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, কারা হামলায় জড়িত এবং হামলার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত যেন আরও না বাড়ে, সে জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ঘটনাটির পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আইনগত পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে।