ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আল্লাহর নৈকট্য পেতে ৫ শক্তিশালী আমল Logo যুক্তরাজ্য ভাঙনের পথে? স্বাধীনতা নিয়ে আসছে বড় ঘোষণা Logo ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় নিয়ে আজ বড় সিদ্ধান্ত Logo বাংলাদেশের নতুন ভিশন জাতিসংঘে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে Logo পদ্মার ঢলে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি হাজারও পরিবার Logo ভুয়া চিকিৎসকের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে বড় প্রশ্ন, কোথায় তদারকি? Logo মূল্যস্ফীতি ১০ মাসের সর্বনিম্নে: এবার কি কমবে নিত্যপণ্যের দাম? Logo ভাইভায় ১০-এর বদলে ৫০ নম্বর! সরকারি চাকরির নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন? Logo ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি: আগামী সপ্তাহেই পরিস্থিতি আরও খারাপের আশঙ্কা

জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটির নিচে: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জন্মহার সংকট

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩১

জাপানে কম জন্মহার ও বেশি মৃত্যুহারের প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে। | ছবি: সংগৃহীত

জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটির নিচে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কম জন্মহার ও বেশি মৃত্যুহারের কারণে দেশটি এখন আরও বড় জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ১৭ হাজার কমেছে, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।

জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত আবাসিক নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৩ জন। টানা ১৭ বছর ধরে দেশটির জনসংখ্যা কমছে, যা জনমিতিক পরিবর্তনের গভীর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সময়ের মধ্যে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা অবশ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে জাপানে ৪০ লাখ ৩১ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর বিদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীদের আগমন বাড়ায় এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে বিদেশ থেকে জাপানে আসা মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৮ জন, যা নতুন রেকর্ড।

দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে শুধু টোকিও টানা তৃতীয় বছরের মতো জাপানি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। রাজধানীতে এক বছরে প্রায় ১২ হাজার ৫৪০ জন জাপানি নাগরিক বেড়েছে। বর্তমানে দেশের মোট জাপানি জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশই টোকিওতে বসবাস করেন।

অন্যদিকে বাকি ৪৬টি প্রিফেকচারেই জনসংখ্যা কমেছে। সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে আকিতা অঞ্চলে, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ১.৯৫ শতাংশ কমেছে। এরপর রয়েছে আওমোরি ও কোচি, যেখানে প্রায় ১.৭ শতাংশ করে জনসংখ্যা কমেছে।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৭টি শিশু, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। একই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৫ জন। ফলে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৯ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি, যা প্রাকৃতিক জনসংখ্যা হ্রাসকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের কোনো প্রিফেকচারেই জন্ম-মৃত্যুর হিসাবে প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়নি। যদিও সাতটি অঞ্চলে বাইরে থেকে মানুষ এসে বসবাস করায় জনসংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে সেখানেও টোকিও সবচেয়ে এগিয়ে।

জাপানি ও বিদেশি—উভয় ধরনের বাসিন্দাকে মিলিয়ে দেশের মোট জনসংখ্যা বর্তমানে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪২ জন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার কম।

এদিকে টোকিও, ওসাকা ও নাগোয়া—এই তিনটি বৃহৎ মহানগর এলাকায় এখনও দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ বসবাস করেন। তবে এই অঞ্চলগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যাও টানা ষষ্ঠ বছরের মতো কমেছে। যদিও পৃথকভাবে টোকিও, ওসাকা ও চিবা প্রিফেকচারে মোট জনসংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে শ্রমশক্তির সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাপ আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জন্মহার বাড়ানো, পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং বিদেশি কর্মী আকর্ষণের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।

জনসংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা শুধু জাপানের জন্য নয়, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আল্লাহর নৈকট্য পেতে ৫ শক্তিশালী আমল

জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটির নিচে: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জন্মহার সংকট

Update Time : ১১:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটির নিচে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা কম জন্মহার ও বেশি মৃত্যুহারের কারণে দেশটি এখন আরও বড় জনসংখ্যা সংকটের মুখোমুখি। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ ১৭ হাজার কমেছে, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।

জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত আবাসিক নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে জাপানি নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৩ জন। টানা ১৭ বছর ধরে দেশটির জনসংখ্যা কমছে, যা জনমিতিক পরিবর্তনের গভীর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সময়ের মধ্যে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা অবশ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে জাপানে ৪০ লাখ ৩১ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর বিদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীদের আগমন বাড়ায় এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে বিদেশ থেকে জাপানে আসা মানুষের সংখ্যা ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৮৮ জন, যা নতুন রেকর্ড।

আরও পড়ুন  প্রেমের টানে চীনা নাগরিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, ধর্মান্তরিত হয়ে করলেন বিয়ে

দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের মধ্যে শুধু টোকিও টানা তৃতীয় বছরের মতো জাপানি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। রাজধানীতে এক বছরে প্রায় ১২ হাজার ৫৪০ জন জাপানি নাগরিক বেড়েছে। বর্তমানে দেশের মোট জাপানি জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশই টোকিওতে বসবাস করেন।

অন্যদিকে বাকি ৪৬টি প্রিফেকচারেই জনসংখ্যা কমেছে। সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে আকিতা অঞ্চলে, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ১.৯৫ শতাংশ কমেছে। এরপর রয়েছে আওমোরি ও কোচি, যেখানে প্রায় ১.৭ শতাংশ করে জনসংখ্যা কমেছে।

আরও পড়ুন  একদিনে ৩৪ জন প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল বাংলাদেশে

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৬৭টি শিশু, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। একই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৫ জন। ফলে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৯ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি, যা প্রাকৃতিক জনসংখ্যা হ্রাসকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের কোনো প্রিফেকচারেই জন্ম-মৃত্যুর হিসাবে প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়নি। যদিও সাতটি অঞ্চলে বাইরে থেকে মানুষ এসে বসবাস করায় জনসংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে সেখানেও টোকিও সবচেয়ে এগিয়ে।

জাপানি ও বিদেশি—উভয় ধরনের বাসিন্দাকে মিলিয়ে দেশের মোট জনসংখ্যা বর্তমানে ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪২ জন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার কম।

আরও পড়ুন  হুতির হুমকি: সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে নতুন সতর্কতা

এদিকে টোকিও, ওসাকা ও নাগোয়া—এই তিনটি বৃহৎ মহানগর এলাকায় এখনও দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ বসবাস করেন। তবে এই অঞ্চলগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যাও টানা ষষ্ঠ বছরের মতো কমেছে। যদিও পৃথকভাবে টোকিও, ওসাকা ও চিবা প্রিফেকচারে মোট জনসংখ্যা কিছুটা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানের জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে শ্রমশক্তির সংকট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাপ আরও বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জন্মহার বাড়ানো, পরিবারবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং বিদেশি কর্মী আকর্ষণের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।

জনসংখ্যা হ্রাসের এই প্রবণতা শুধু জাপানের জন্য নয়, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।