ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান Logo গ্রেপ্তার এড়াতে চেহারা বদলেছিলেন ডেভিড ইমন, তবু শেষ রক্ষা হয়নি Logo ৪২ বছর বয়সে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন কারিশমা তান্না Logo চন্দনাইশে বন্যার পানিতে ভেসে গেল মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের স্বপ্ন Logo জন্মদিনে ফিরে দেখা ববিতা, যে ১২টি তথ্য হয়তো জানেন না Logo একটি কভার গান বদলে দিয়েছে তাঁদের পথচলা, যেভাবে শুরু হয়েছিল যাত্রা Logo ‘গুলশানের চামেলি’তে নতুন রূপে বাঁধন, থাকছে শক্তিশালী নারী চরিত্র Logo গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে গান জমা দেবে না বিটিএস, বিস্মিত ভক্তরা Logo অনুপম রায়ের ঢাকা কনসার্ট আবার স্থগিত, জানা গেল কারণ Logo মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা

চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৫০১

একদিনেই ঘুরে দেখুন চট্টগ্রামের সেরা দর্শনীয় স্থানগুলো! 🌊🏞️ পতেঙ্গা, ফয়’স লেক, পারকি সৈকতসহ জেনে নিন কোথায় কোথায় ঘুরবেন।

এক দিনের ছুটিতে প্রকৃতি, ইতিহাস ও বিনোদনের স্বাদ একসঙ্গে নিতে চাইলে চট্টগ্রাম হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। সাগর, পাহাড়, নদী, হ্রদ ও ঐতিহাসিক স্থাপনার সমন্বয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রয়েছে এমন অনেক দর্শনীয় স্থান, যেখানে পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে সহজেই আনন্দঘন সময় কাটানো যায়। নগর ও আশপাশের কয়েকটি জনপ্রিয় স্পট ঘুরে দেখা সম্ভব মাত্র এক দিনেই।

ভ্রমণের তালিকায় সবার আগে রাখা যায় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে। কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত এই সৈকত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সমুদ্রের ঢেউ, নোঙর করা জাহাজ এবং শীতল বাতাস পর্যটকদের মুগ্ধ করে। চাইলে স্পিডবোটে ঘুরে বেড়ানো কিংবা সৈকতের পাশে ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতাও নেওয়া যায়।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা আউটার রিং রোড ব্যবহার করে খুব সহজেই পতেঙ্গায় পৌঁছানো যায়। পথে কর্ণফুলী নদী, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এবং উপকূলীয় মনোরম দৃশ্য ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। সৈকতের পাশে রয়েছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রজাপতি পার্ক, যা একই দিনে ঘুরে দেখা সম্ভব।

রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ ফয়’স লেক। খুলশী এলাকায় অবস্থিত এই বিনোদনকেন্দ্রে রয়েছে পাহাড়ঘেরা হ্রদ, নৌকা ভ্রমণ, রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, বাম্পার কারসহ নানা ধরনের রাইড। পাশাপাশি সি-ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক ও বেজক্যাম্পে জিপলাইন, কায়াকিং, আর্চারি এবং অন্যান্য অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমও উপভোগ করা যায়।

ফয়’স লেকে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৩০০ টাকা। সি-ওয়ার্ল্ড ও বেজক্যাম্পের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। দলবদ্ধভাবে আগাম বুকিং করলে প্রবেশমূল্যে ছাড় পাওয়া যায়। পরিবার, বন্ধু কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ফয়’স লেকের পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। এখানে প্রায় ৬৮ প্রজাতির ৫২০টিরও বেশি পশুপাখি রয়েছে। বাঘ, সিংহ, ভালুক, হরিণসহ নানা প্রাণী কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকায় শিশুদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। চিড়িয়াখানায় প্রবেশমূল্য জনপ্রতি মাত্র ৭০ টাকা।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ভাটিয়ারী হ্রদ ও সানসেট পয়েন্ট অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড়, হ্রদ ও সূর্যাস্তের অপূর্ব সমন্বয় এই স্থানকে আলাদা সৌন্দর্য দিয়েছে। শীতকালে এখানকার পরিবেশ সবচেয়ে মনোরম থাকে। কাছেই রয়েছে মাটিটা ইকো-রিসোর্ট, যেখানে কায়াকিং, জিপ লাইনিং, সাইক্লিং ও আর্চারির মতো নানা কার্যক্রম উপভোগ করা যায়।

ইতিহাসে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত বিভিন্ন দেশের ৭৫৫ জন সৈনিকের সমাধি এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিটি সমাধিতে নিহতদের পরিচয়, বয়স ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষিত আছে। পরিচ্ছন্ন ও নীরব পরিবেশের কারণে এটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরও এক দিনের ভ্রমণে যুক্ত করা যেতে পারে। এখানে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন দেশের জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনযাপন, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলংকার ও ব্যবহৃত সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়। এটি গবেষক, শিক্ষার্থী ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য পারকি সমুদ্রসৈকত হতে পারে দিনের শেষ গন্তব্য। কর্ণফুলী টানেল চালুর পর নগর থেকে খুব সহজেই এই সৈকতে পৌঁছানো যায়। দীর্ঘ বালুকাবেলা, ঝাউবন, লাল কাঁকড়ার বিচরণ এবং দূরে ভাসমান জাহাজের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এক দিনের স্বল্প সময়েই চট্টগ্রামের প্রকৃতি, ইতিহাস ও বিনোদনের অসাধারণ সমন্বয় উপভোগ করতে চাইলে এই স্থানগুলো হতে পারে সেরা পছন্দ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান

চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান

Update Time : ০৩:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

এক দিনের ছুটিতে প্রকৃতি, ইতিহাস ও বিনোদনের স্বাদ একসঙ্গে নিতে চাইলে চট্টগ্রাম হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। সাগর, পাহাড়, নদী, হ্রদ ও ঐতিহাসিক স্থাপনার সমন্বয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রয়েছে এমন অনেক দর্শনীয় স্থান, যেখানে পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে সহজেই আনন্দঘন সময় কাটানো যায়। নগর ও আশপাশের কয়েকটি জনপ্রিয় স্পট ঘুরে দেখা সম্ভব মাত্র এক দিনেই।

ভ্রমণের তালিকায় সবার আগে রাখা যায় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে। কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত এই সৈকত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সমুদ্রের ঢেউ, নোঙর করা জাহাজ এবং শীতল বাতাস পর্যটকদের মুগ্ধ করে। চাইলে স্পিডবোটে ঘুরে বেড়ানো কিংবা সৈকতের পাশে ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতাও নেওয়া যায়।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কিংবা আউটার রিং রোড ব্যবহার করে খুব সহজেই পতেঙ্গায় পৌঁছানো যায়। পথে কর্ণফুলী নদী, চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম এবং উপকূলীয় মনোরম দৃশ্য ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। সৈকতের পাশে রয়েছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রজাপতি পার্ক, যা একই দিনে ঘুরে দেখা সম্ভব।

আরও পড়ুন  চুলে কতবার চিরুনি চালানো উচিত? জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ ফয়’স লেক। খুলশী এলাকায় অবস্থিত এই বিনোদনকেন্দ্রে রয়েছে পাহাড়ঘেরা হ্রদ, নৌকা ভ্রমণ, রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, বাম্পার কারসহ নানা ধরনের রাইড। পাশাপাশি সি-ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক ও বেজক্যাম্পে জিপলাইন, কায়াকিং, আর্চারি এবং অন্যান্য অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমও উপভোগ করা যায়।

ফয়’স লেকে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৩০০ টাকা। সি-ওয়ার্ল্ড ও বেজক্যাম্পের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। দলবদ্ধভাবে আগাম বুকিং করলে প্রবেশমূল্যে ছাড় পাওয়া যায়। পরিবার, বন্ধু কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন  প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে চমকে দিল কেপ ভার্দে

ফয়’স লেকের পাশেই অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। এখানে প্রায় ৬৮ প্রজাতির ৫২০টিরও বেশি পশুপাখি রয়েছে। বাঘ, সিংহ, ভালুক, হরিণসহ নানা প্রাণী কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকায় শিশুদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। চিড়িয়াখানায় প্রবেশমূল্য জনপ্রতি মাত্র ৭০ টাকা।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ভাটিয়ারী হ্রদ ও সানসেট পয়েন্ট অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড়, হ্রদ ও সূর্যাস্তের অপূর্ব সমন্বয় এই স্থানকে আলাদা সৌন্দর্য দিয়েছে। শীতকালে এখানকার পরিবেশ সবচেয়ে মনোরম থাকে। কাছেই রয়েছে মাটিটা ইকো-রিসোর্ট, যেখানে কায়াকিং, জিপ লাইনিং, সাইক্লিং ও আর্চারির মতো নানা কার্যক্রম উপভোগ করা যায়।

ইতিহাসে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত বিভিন্ন দেশের ৭৫৫ জন সৈনিকের সমাধি এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিটি সমাধিতে নিহতদের পরিচয়, বয়স ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষিত আছে। পরিচ্ছন্ন ও নীরব পরিবেশের কারণে এটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

আরও পড়ুন  প্রতিদিন চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাচ্ছেন? জানুন শরীরে কী ঘটতে পারে

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরও এক দিনের ভ্রমণে যুক্ত করা যেতে পারে। এখানে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন দেশের জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনযাপন, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলংকার ও ব্যবহৃত সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়। এটি গবেষক, শিক্ষার্থী ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য পারকি সমুদ্রসৈকত হতে পারে দিনের শেষ গন্তব্য। কর্ণফুলী টানেল চালুর পর নগর থেকে খুব সহজেই এই সৈকতে পৌঁছানো যায়। দীর্ঘ বালুকাবেলা, ঝাউবন, লাল কাঁকড়ার বিচরণ এবং দূরে ভাসমান জাহাজের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এক দিনের স্বল্প সময়েই চট্টগ্রামের প্রকৃতি, ইতিহাস ও বিনোদনের অসাধারণ সমন্বয় উপভোগ করতে চাইলে এই স্থানগুলো হতে পারে সেরা পছন্দ।