রংপুর শিশু হাসপাতাল অবশেষে চালুর দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১০০ শয্যার আধুনিক এই হাসপাতাল খুব শিগগিরই শিশুদের জন্য চিকিৎসাসেবা শুরু করতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও জনবল নিয়োগের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালটির উদ্বোধন করবেন।
শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। তিনি আউটডোর, ইনডোর, অক্সিজেন প্ল্যান্ট, প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রস্তুতির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। হাসপাতালটি দ্রুত চালুর জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই সব যন্ত্রপাতি হাসপাতালে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে নতুন জনবল নিয়োগের বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। হাসপাতালের আসবাবপত্র সংগ্রহের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু হলে শিশুদের সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি জটিল সার্জারি, জরুরি চিকিৎসা, বার্ন ইউনিট এবং উন্নত ল্যাব সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে। হাসপাতালের প্রথম তলায় থাকবে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, চিকিৎসকদের কক্ষ ও ল্যাবরেটরি। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার ও বার্ন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন থাকবে। ফলে উত্তরাঞ্চলের হাজারো পরিবারকে আর চিকিৎসার জন্য দূরের শহরে ছুটতে হবে না।
এই হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে। প্রায় ৩১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয় এবং ২০২০ সালে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। করোনাকালে ভবনটি অস্থায়ীভাবে আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এতদিন পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল হিসেবে চালু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু হলে শুধু রংপুর নয়, আশপাশের জেলাগুলোর শিশুরাও উন্নত ও স্বল্প ব্যয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন। এতে শিশুদের চিকিৎসায় ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও মনে করছেন, আধুনিক এই হাসপাতাল চালু হলে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে নতুন এক যুগের সূচনা হবে।



















