ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোক্তা অধিকার আইন: জরিমানার ২৫% পাবেন অভিযোগকারী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৪৬

অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানার ২৫ শতাংশ পেতে পারেন অভিযোগকারী | ছবি: সংগৃহীত

ভোক্তা অধিকার আইন ভোক্তাদের প্রতারণা, ভেজাল পণ্য, অতিরিক্ত দাম, ওজনে কম দেওয়া ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা দেয়। কোনো ব্যবসায়ী বা সেবা প্রদানকারী আইন লঙ্ঘন করলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে ভোক্তাদের জন্য বড় একটি সুবিধা হলো, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরিমানা আদায় হলে নির্দিষ্ট শর্তে অভিযোগকারী আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ পেতে পারেন।

আইনে পণ্যের মোড়কে ওজন, পরিমাণ, উপাদান, ব্যবহারবিধি, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও প্যাকেটজাতের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব তথ্য না থাকলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। দোকান বা প্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেবার মূল্যতালিকা সংরক্ষণ ও দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন না করলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার আইন ও শাস্তির বিধান
ভোক্তা অধিকার আইন ভঙ্গ করলে হতে পারে কারাদণ্ড ও জরিমানা | ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রি করলেও অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। জেনেশুনে ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বিক্রি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। খাদ্যের সঙ্গে মানুষের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ উপাদান মেশানো এবং ক্ষতিকর প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ করলেও আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

মিথ্যা বা অসত্য বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাকে প্রতারিত করাও আইনের আওতায় অপরাধ। প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে সরবরাহ না করা, ওজনে কম দেওয়া, ওজন মাপার যন্ত্রে কারচুপি, কম পরিমাণে পণ্য দেওয়া এবং দৈর্ঘ্য মাপার যন্ত্রে কারসাজির জন্যও শাস্তি হতে পারে। একইভাবে নকল পণ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি করলেও কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিযোগকারীর প্রাপ্য অর্থ। কোনো ভোক্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হয়ে জরিমানা আদায় হলে সেই আদায়কৃত অর্থের ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিয়মিত ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়ে জরিমানা দিলে এবং সেই অর্থ আদায় হলে নির্ধারিত শর্তে অভিযোগকারীও ২৫ শতাংশ পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন। তবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারী অভিযোগকারী হলে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

তাই বাজারে পণ্য বা সেবা কেনার সময় ভোক্তাদের সচেতন থাকা জরুরি। পণ্য কেনার রসিদ, বিল, প্যাকেট, মূল্যতালিকা কিংবা বিজ্ঞাপনের তথ্য সংরক্ষণ করলে অভিযোগের সময় সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে, কারণ এমন অভিযোগের বিরুদ্ধেও আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিস্তারিত বিধান সরকারি আইনভান্ডারে পাওয়া যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোক্তা অধিকার আইন: জরিমানার ২৫% পাবেন অভিযোগকারী

Update Time : ০১:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভোক্তা অধিকার আইন ভোক্তাদের প্রতারণা, ভেজাল পণ্য, অতিরিক্ত দাম, ওজনে কম দেওয়া ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা দেয়। কোনো ব্যবসায়ী বা সেবা প্রদানকারী আইন লঙ্ঘন করলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে ভোক্তাদের জন্য বড় একটি সুবিধা হলো, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরিমানা আদায় হলে নির্দিষ্ট শর্তে অভিযোগকারী আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ পেতে পারেন।

আইনে পণ্যের মোড়কে ওজন, পরিমাণ, উপাদান, ব্যবহারবিধি, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও প্যাকেটজাতের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব তথ্য না থাকলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। দোকান বা প্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেবার মূল্যতালিকা সংরক্ষণ ও দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন না করলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন  মুখস্থনির্ভর শিক্ষা বদলে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ছে সরকার
ভোক্তা অধিকার আইন ও শাস্তির বিধান
ভোক্তা অধিকার আইন ভঙ্গ করলে হতে পারে কারাদণ্ড ও জরিমানা | ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রি করলেও অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। জেনেশুনে ভেজাল পণ্য বা ওষুধ বিক্রি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড হতে পারে। খাদ্যের সঙ্গে মানুষের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ উপাদান মেশানো এবং ক্ষতিকর প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ করলেও আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

মিথ্যা বা অসত্য বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাকে প্রতারিত করাও আইনের আওতায় অপরাধ। প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে সরবরাহ না করা, ওজনে কম দেওয়া, ওজন মাপার যন্ত্রে কারচুপি, কম পরিমাণে পণ্য দেওয়া এবং দৈর্ঘ্য মাপার যন্ত্রে কারসাজির জন্যও শাস্তি হতে পারে। একইভাবে নকল পণ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি করলেও কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে গাছে বেঁধে মারধর: চুরির অভিযোগে তরুণ নির্যাতন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিযোগকারীর প্রাপ্য অর্থ। কোনো ভোক্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হয়ে জরিমানা আদায় হলে সেই আদায়কৃত অর্থের ২৫ শতাংশ অভিযোগকারীকে দেওয়ার বিধান রয়েছে। আদালত বা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিয়মিত ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়ে জরিমানা দিলে এবং সেই অর্থ আদায় হলে নির্ধারিত শর্তে অভিযোগকারীও ২৫ শতাংশ পাওয়ার অধিকারী হতে পারেন। তবে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বা কর্মচারী অভিযোগকারী হলে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

আরও পড়ুন  হাম প্রতিরোধে টিকাদান জোরদার, দ্রুত শতভাগ শিশুকে আওতায় আনার আশ্বাস

তাই বাজারে পণ্য বা সেবা কেনার সময় ভোক্তাদের সচেতন থাকা জরুরি। পণ্য কেনার রসিদ, বিল, প্যাকেট, মূল্যতালিকা কিংবা বিজ্ঞাপনের তথ্য সংরক্ষণ করলে অভিযোগের সময় সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে, কারণ এমন অভিযোগের বিরুদ্ধেও আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিস্তারিত বিধান সরকারি আইনভান্ডারে পাওয়া যাবে।