ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার-বাংলাদেশ বাণিজ্য: ফের চালুর বড় উদ্যোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৪

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য ফের চালুর আগ্রহ জানিয়েছে মিয়ানমার | ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার-বাংলাদেশ বাণিজ্য আবার চালু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য প্রথমে সীমিত কিংবা অস্থায়ী পরিসরে চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। মিয়ানমারের এমন উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা দুই দেশের সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষই লাভবান হবেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে শুরুতে সীমিত বা অস্থায়ীভাবে বাণিজ্য চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য বাড়ানো, আমদানি-রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাখাইন রাজ্যের চলমান সংঘাত ও আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ। দেশটির প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশের নৌ চলাচলেও। পণ্যবাহী জাহাজ থেকে আরাকান আর্মির চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে দুই দেশের বহু ব্যবসায়ী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন।

তবে চলতি বছরের ১ মে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছালে সীমান্ত বাণিজ্য ফের স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়। বর্তমানে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য আমদানি হচ্ছে না। রাখাইন রাজ্য থেকে সীমিত পরিসরে কাঠ আসছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য মিয়ানমারে যাচ্ছে। নাফ নদীতে আগের মতো কঠোর বাধা না থাকলেও নিরাপত্তাঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্য এখনো সীমিত পর্যায়েই রয়েছে।

বৈঠকে শুধু সীমান্ত বাণিজ্য নয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখার কথা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, সরাসরি শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ আগ্রহী। ভৌগোলিক অবস্থান ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুই দেশ নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগসংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমার-বাংলাদেশ বাণিজ্য: ফের চালুর বড় উদ্যোগ

Update Time : ০৪:০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

মিয়ানমার-বাংলাদেশ বাণিজ্য আবার চালু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মিয়ানমার। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য প্রথমে সীমিত কিংবা অস্থায়ী পরিসরে চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো ময়ে। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। মিয়ানমারের এমন উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা দুই দেশের সীমান্তকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষই লাভবান হবেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলে শুরুতে সীমিত বা অস্থায়ীভাবে বাণিজ্য চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য বাড়ানো, আমদানি-রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করছে ফাঁসির দড়ি : নাহিদ ইসলাম

মিয়ানমার-বাংলাদেশ বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাখাইন রাজ্যের চলমান সংঘাত ও আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ। দেশটির প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা এখন সশস্ত্র গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশের নৌ চলাচলেও। পণ্যবাহী জাহাজ থেকে আরাকান আর্মির চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে দুই দেশের বহু ব্যবসায়ী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন।

তবে চলতি বছরের ১ মে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই একটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছালে সীমান্ত বাণিজ্য ফের স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়। বর্তমানে ইয়াঙ্গুন থেকে সরাসরি পণ্য আমদানি হচ্ছে না। রাখাইন রাজ্য থেকে সীমিত পরিসরে কাঠ আসছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য মিয়ানমারে যাচ্ছে। নাফ নদীতে আগের মতো কঠোর বাধা না থাকলেও নিরাপত্তাঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে বাণিজ্য এখনো সীমিত পর্যায়েই রয়েছে।

আরও পড়ুন  দারুণ অর্জন! ইউনিলিভার বাংলাদেশ জিতল মোস্ট সাসটেইনেবল কোম্পানি অব দ্য ইয়ার

বৈঠকে শুধু সীমান্ত বাণিজ্য নয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ খতিয়ে দেখার কথা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, সরাসরি শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, এলএনজি আমদানি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  টানা দুই দফায় ভরিতে কত বাড়ল সোনা-রুপার দাম

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ আগ্রহী। ভৌগোলিক অবস্থান ও বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দুই দেশ নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগসংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে।