ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডার দাবানলে ভয়াবহ আগুন, সরানো হলো ২০ হাজার মানুষ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ দাবানল। | ছবি: সংগৃহীত

কানাডার দাবানল এবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনে বেশ কিছু বাড়িঘরও ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তখন প্রদেশজুড়ে ১০০টির বেশি দাবানল সক্রিয় ছিল এবং এর প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তীব্র গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে বাল্ড রেঞ্জের আগুন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আগুনের সূত্রপাত হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি দ্রুত বিস্তৃত হয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর বা ২৩ হাজার ৫০০ একর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। ফাউলডার এলাকার কাছে শুরু হওয়া আগুন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ডে পৌঁছে যায়। আগুনের গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওকানাগান লেকের পশ্চিমে সামারল্যান্ড, পিচল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনো আগুনের ঝুঁকি রয়েছে।

প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দার সামারল্যান্ড শহর রাতেই পুরোপুরি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর পিচল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় আরও প্রায় ৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, সে সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কিছু মানুষ আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন প্রিমিয়ার ডেভিড এবি। তাদের উদ্ধারে কাজ করেছে জরুরি উদ্ধারকারী দল। সড়কপথে বের হতে না পারা বাসিন্দাদের উদ্ধারে দমকলের হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কানাডার দাবানল পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরক’ বলে বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিসের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান। তাঁর সতর্কতা, প্রদেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের দ্রুতগতির আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। শনিবার নতুন করে পিচল্যান্ড ওয়াটারশেড, ব্রেন্ডা মাইনস, লোয়ার প্রিন্সটন এবং ডাউনটাউনসহ কয়েকটি এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কিছু এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এখন প্রায় ১ হাজার ৫০০ দমকলকর্মী কাজ করছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ৩৯টি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং ৪৯টি সতর্কতা জারি রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে। মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ কানাডাকে দাবানল মোকাবিলায় সহায়তা করছে। তবে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুনের গতিপথ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকছে।

কানাডায় চলতি গ্রীষ্মে একের পর এক বড় দাবানল দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পাশাপাশি অন্টারিও, কুইবেকসহ বিভিন্ন প্রদেশেও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রবণতা বাড়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ অবস্থায় কানাডার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। ডেভিড এবি বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেছেন, সরকারি নির্দেশনা পাওয়া মাত্র দেরি না করে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে। কারণ কানাডার দাবানল পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টাই অনেক এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কানাডার দাবানলে ভয়াবহ আগুন, সরানো হলো ২০ হাজার মানুষ

Update Time : ০৯:০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

কানাডার দাবানল এবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনে বেশ কিছু বাড়িঘরও ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তখন প্রদেশজুড়ে ১০০টির বেশি দাবানল সক্রিয় ছিল এবং এর প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তীব্র গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে বাল্ড রেঞ্জের আগুন। শুক্রবার সন্ধ্যায় আগুনের সূত্রপাত হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি দ্রুত বিস্তৃত হয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর বা ২৩ হাজার ৫০০ একর এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। ফাউলডার এলাকার কাছে শুরু হওয়া আগুন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ডে পৌঁছে যায়। আগুনের গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওকানাগান লেকের পশ্চিমে সামারল্যান্ড, পিচল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এখনো আগুনের ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুন  মিসৌরি বিমান দুর্ঘটনা: ১১ স্কাইডাইভারসহ পাইলট নিহত

প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দার সামারল্যান্ড শহর রাতেই পুরোপুরি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর পিচল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় আরও প্রায় ৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে, সে সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কিছু মানুষ আগুনের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন প্রিমিয়ার ডেভিড এবি। তাদের উদ্ধারে কাজ করেছে জরুরি উদ্ধারকারী দল। সড়কপথে বের হতে না পারা বাসিন্দাদের উদ্ধারে দমকলের হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  মার্কিন প্রস্তাবে না তেহরানের, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

কানাডার দাবানল পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরক’ বলে বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ওয়াইল্ডফায়ার সার্ভিসের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান। তাঁর সতর্কতা, প্রদেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের দ্রুতগতির আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। শনিবার নতুন করে পিচল্যান্ড ওয়াটারশেড, ব্রেন্ডা মাইনস, লোয়ার প্রিন্সটন এবং ডাউনটাউনসহ কয়েকটি এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কিছু এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চলাচল নিয়ন্ত্রণের মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এখন প্রায় ১ হাজার ৫০০ দমকলকর্মী কাজ করছেন। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ৩৯টি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ এবং ৪৯টি সতর্কতা জারি রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে। মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ কানাডাকে দাবানল মোকাবিলায় সহায়তা করছে। তবে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুনের গতিপথ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকছে।

আরও পড়ুন  দিল্লি বিক্ষোভ: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তর

কানাডায় চলতি গ্রীষ্মে একের পর এক বড় দাবানল দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার পাশাপাশি অন্টারিও, কুইবেকসহ বিভিন্ন প্রদেশেও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার প্রবণতা বাড়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ অবস্থায় কানাডার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। ডেভিড এবি বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেছেন, সরকারি নির্দেশনা পাওয়া মাত্র দেরি না করে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হবে। কারণ কানাডার দাবানল পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টাই অনেক এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।