আশুলিয়ায় গর্ভধারণের ৩৬ সপ্তাহে একসঙ্গে তিন সন্তানের সফল স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে (এডব্লিউসিএইচ) চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এই প্রসব সম্পন্ন হয়। প্রসবের পর মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই ওই নারী আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রসবপূর্ব পরিচর্যা নিচ্ছিলেন। অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায় পর্যবেক্ষণ করা হয়।
একসঙ্গে তিন সন্তান গর্ভধারণকে তুলনামূলকভাবে জটিল গর্ভাবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে শুরু থেকেই ওই নারীর স্বাস্থ্য ও গর্ভের শিশুদের অবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হয়। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলতে থাকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই নারীকে কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে সেখানেই চিকিৎসা চালিয়ে যান।
চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে মা ও তিন শিশুর অবস্থা বিবেচনা করে স্বাভাবিক প্রসবের পরিকল্পনা করা হয়। পুরো গর্ভাবস্থাজুড়ে চিকিৎসক দল সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জটিলতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেয়।
পরে গর্ভধারণের ৩৬ সপ্তাহে হাসপাতালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিন শিশুরই স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়।
একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুটি মেয়ে ও একটি ছেলে। জন্মের পর তাদের ওজনেও পার্থক্য রয়েছে।
প্রথম কন্যাশিশুটির ওজন ১ দশমিক ৮ কেজি। দ্বিতীয় শিশু ছেলে, তার ওজন ২ কেজি। তৃতীয় কন্যাশিশুটির ওজন ২ দশমিক ৭ কেজি।
প্রসবের পর মা ও তিন নবজাতকই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রসবের আগে থেকেই তিন নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অধ্যাপক আনজুমান আরা রিতার নেতৃত্বে এবং ডা. মোস্তারি ফারহানার তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একটি দল পুরো গর্ভাবস্থার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
একসঙ্গে তিন সন্তানের গর্ভধারণের ক্ষেত্রে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে চিকিৎসক দল গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রসবের প্রস্তুতি নেয়।
গর্ভধারণের ৩৬ সপ্তাহে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও তত্ত্বাবধানে তিন শিশুর স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়। প্রসবের আগে থেকেই সম্ভাব্য প্রয়োজন বিবেচনায় নবজাতকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. দবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, একসঙ্গে তিন সন্তানের স্বাভাবিক প্রসব হাসপাতালের পুরো চিকিৎসক ও সেবাদানকারী দলের জন্য আনন্দের বিষয়।
তিনি বলেন, এ ধরনের জটিল গর্ভাবস্থায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা এবং সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ও শিশুদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসক ও সেবাদানকারী দল পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছে।
ডা. দবির উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এডব্লিউসিএইচ একটি অলাভজনক হাসপাতাল। সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে মা ও শিশুর নিরাপদ চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করার ওপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন নবজাতকের প্রসবের আগে থেকেই তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। একসঙ্গে তিন শিশুর জন্ম হওয়ায় প্রসবের সময় অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে—এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সেবাদানকারী দল প্রস্তুত ছিল।
গর্ভধারণের শুরু থেকে নিয়মিত চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধান এবং প্রসবের সময় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
একসঙ্গে তিন সন্তানের স্বাভাবিক প্রসব তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা হওয়ায় ঘটনাটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবাদানকারী দলের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে মা ও তিন নবজাতকের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।



























