ঢাকা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানির চেয়েও বেশি হাইড্রেট করতে পারে যে ৪ পানীয়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৪

পানি ছাড়াও কিছু পানীয় শরীরে তরল ও ইলেকট্রোলাইট জোগাতে পারে | ছবি: সংগৃহীত

গরমে শরীর সতেজ রাখতে বা ব্যায়ামের পর ক্লান্তি কাটাতে আমরা সাধারণত পানির ওপরই ভরসা করি। আর সেটিই স্বাভাবিক। তবে শরীরকে হাইড্রেটিং পানীয় দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু পানি নয়, কিছু পানীয় অতিরিক্ত ইলেকট্রোলাইট, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন সরবরাহ করে শরীরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে পানি অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। বরং দৈনন্দিন জীবনে পানি এখনও হাইড্রেশনের সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য উৎস। পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য কিছু পানীয়ও রুটিনে যোগ করা যেতে পারে।

শরীরে কতটা পানি প্রয়োজন

মানবদেহের বেশিরভাগ অংশই পানি দিয়ে তৈরি। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি বজায় রাখা, জয়েন্টের স্বাভাবিক নড়াচড়া এবং বর্জ্য অপসারণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে পানি প্রয়োজন।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক তরলের প্রয়োজন এক রকম নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্য এবং আবহাওয়ার ওপর প্রয়োজনের পরিমাণ নির্ভর করে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কিংবা বেশি ঘাম হলে শরীরের তরলের চাহিদা বাড়তে পারে।

প্রস্রাবের রংও শরীরের হাইড্রেশন সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দিতে পারে। গাঢ় রং, মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার।

দুধ

শুনতে অবাক লাগলেও দুধ শুধু পুষ্টিকর খাবার নয়, শরীরে তরল সরবরাহের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে। দুধে পানি থাকার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন থাকে।

এই উপাদানগুলো শরীরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে কিছু গবেষণায় দুধকে সাধারণ পানির তুলনায় দীর্ঘসময় হাইড্রেশন ধরে রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর হিসেবে দেখা হয়েছে।

তবে দুধ সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা দুধে অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

চকোলেট মিল্ক

ব্যায়ামের পর শুধু পানি পান করলেই শরীরের হারানো সব পুষ্টি ফিরে আসে না। এ ক্ষেত্রে চকোলেট মিল্ক কিছুটা আলাদা সুবিধা দিতে পারে। এতে তরলের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট ও উচ্চমানের প্রোটিন থাকে।

ব্যায়ামের সময় ঘামের মাধ্যমে হারানো তরল পূরণ এবং পেশির পুনরুদ্ধারে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ব্যায়ামের পরের পানীয় হিসেবে চকোলেট মিল্ক নিয়ে গবেষণায় আগ্রহ রয়েছে।

তবে এতে বাড়তি চিনি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত পান করার আগে পুষ্টি উপাদানের লেবেল দেখে নেওয়া ভালো।

১০০ শতাংশ কমলার জুস

স্বাদে মিষ্টি ও সতেজ ১০০ শতাংশ কমলার জুসও হাইড্রেশনের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা দিতে পারে। কমলার জুসে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে এবং এতে প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়ামসহ কিছু ইলেকট্রোলাইট রয়েছে।

পটাশিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কমলার জুসে ম্যাগনেশিয়ামও থাকে এবং ফোর্টিফায়েড পণ্যে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যোগ করা থাকতে পারে।

ব্যায়ামের পর পানীয় হিসেবে ১০০ শতাংশ কমলার জুস নিয়েও গবেষণা হয়েছে। তবে জুস বেছে নেওয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সেটি ১০০ শতাংশ ফলের জুস কি না এবং এতে বাড়তি চিনি যোগ করা হয়েছে কি না।

ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক

সবসময় ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকের প্রয়োজন হয় না। তবে দীর্ঘসময় বা উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করলে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে সোডিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। তখন শুধু পানি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

সোডিয়াম ও গ্লুকোজযুক্ত কিছু ইলেকট্রোলাইট পানীয় শরীরে তরল শোষণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম, প্রচণ্ড গরমে শারীরিক পরিশ্রম কিংবা অতিরিক্ত ঘামের পরিস্থিতিতে এগুলো বেশি কার্যকর হতে পারে।

তবে সাধারণ দিনে বসে থাকা বা স্বল্প সময়ের হালকা ব্যায়ামের পর অকারণে ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক পান করার প্রয়োজন নেই। অনেক পণ্যে বাড়তি চিনি ও ক্যালোরিও থাকতে পারে।

পানির বিকল্প নয়

এই চারটি পানীয় কিছু পরিস্থিতিতে পানির তুলনায় বেশি সময় শরীরে তরল ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু তার মানে পানি বাদ দিতে হবে না। বরং হাইড্রেটিং পানীয় হিসেবে এগুলোকে পানির পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে রাখা যায়।

শুধু পানীয় নয়, খাবার থেকেও শরীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি পায়। শসা, তরমুজ, কমলা ও অন্যান্য পানি-সমৃদ্ধ ফল ও সবজি দৈনিক তরলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।

চা ও স্পার্কলিং ওয়াটারও দৈনিক তরল গ্রহণের অংশ হতে পারে। তবে চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত পানীয়কে স্বাস্থ্যকর হাইড্রেশনের সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া ঠিক নয়।

সবশেষে বলা যায়, প্রতিদিনের জন্য সাধারণ পানি এখনও সবচেয়ে ভালো পছন্দ। তবে ব্যায়াম, অতিরিক্ত ঘাম বা পুষ্টির অতিরিক্ত প্রয়োজনের মতো পরিস্থিতিতে দুধ, ১০০ শতাংশ কমলার জুস বা উপযুক্ত ইলেকট্রোলাইট পানীয় রুটিনে বৈচিত্র্য আনতে পারে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত পানি বাদ দেওয়া নয়, বরং প্রয়োজন বুঝে সঠিক তরল বেছে নেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

পানির চেয়েও বেশি হাইড্রেট করতে পারে যে ৪ পানীয়

Update Time : ১১:০৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

গরমে শরীর সতেজ রাখতে বা ব্যায়ামের পর ক্লান্তি কাটাতে আমরা সাধারণত পানির ওপরই ভরসা করি। আর সেটিই স্বাভাবিক। তবে শরীরকে হাইড্রেটিং পানীয় দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু পানি নয়, কিছু পানীয় অতিরিক্ত ইলেকট্রোলাইট, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন সরবরাহ করে শরীরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে পানি অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। বরং দৈনন্দিন জীবনে পানি এখনও হাইড্রেশনের সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য উৎস। পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য কিছু পানীয়ও রুটিনে যোগ করা যেতে পারে।

শরীরে কতটা পানি প্রয়োজন

মানবদেহের বেশিরভাগ অংশই পানি দিয়ে তৈরি। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি বজায় রাখা, জয়েন্টের স্বাভাবিক নড়াচড়া এবং বর্জ্য অপসারণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে পানি প্রয়োজন।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক তরলের প্রয়োজন এক রকম নয়। বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্য এবং আবহাওয়ার ওপর প্রয়োজনের পরিমাণ নির্ভর করে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কিংবা বেশি ঘাম হলে শরীরের তরলের চাহিদা বাড়তে পারে।

প্রস্রাবের রংও শরীরের হাইড্রেশন সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দিতে পারে। গাঢ় রং, মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন  ওজন কমানোর ট্যাবলেট ওয়েগোভি অনুমোদন দিল এফডিএ

দুধ

শুনতে অবাক লাগলেও দুধ শুধু পুষ্টিকর খাবার নয়, শরীরে তরল সরবরাহের ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে। দুধে পানি থাকার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন থাকে।

এই উপাদানগুলো শরীরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে কিছু গবেষণায় দুধকে সাধারণ পানির তুলনায় দীর্ঘসময় হাইড্রেশন ধরে রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর হিসেবে দেখা হয়েছে।

তবে দুধ সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা দুধে অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

চকোলেট মিল্ক

ব্যায়ামের পর শুধু পানি পান করলেই শরীরের হারানো সব পুষ্টি ফিরে আসে না। এ ক্ষেত্রে চকোলেট মিল্ক কিছুটা আলাদা সুবিধা দিতে পারে। এতে তরলের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট ও উচ্চমানের প্রোটিন থাকে।

ব্যায়ামের সময় ঘামের মাধ্যমে হারানো তরল পূরণ এবং পেশির পুনরুদ্ধারে কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ব্যায়ামের পরের পানীয় হিসেবে চকোলেট মিল্ক নিয়ে গবেষণায় আগ্রহ রয়েছে।

তবে এতে বাড়তি চিনি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত পান করার আগে পুষ্টি উপাদানের লেবেল দেখে নেওয়া ভালো।

১০০ শতাংশ কমলার জুস

আরও পড়ুন  ছেলে নিয়ে উধাও যুবক, খোঁজ নেন না গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই মেয়ের

স্বাদে মিষ্টি ও সতেজ ১০০ শতাংশ কমলার জুসও হাইড্রেশনের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা দিতে পারে। কমলার জুসে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে এবং এতে প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়ামসহ কিছু ইলেকট্রোলাইট রয়েছে।

পটাশিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কমলার জুসে ম্যাগনেশিয়ামও থাকে এবং ফোর্টিফায়েড পণ্যে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যোগ করা থাকতে পারে।

ব্যায়ামের পর পানীয় হিসেবে ১০০ শতাংশ কমলার জুস নিয়েও গবেষণা হয়েছে। তবে জুস বেছে নেওয়ার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সেটি ১০০ শতাংশ ফলের জুস কি না এবং এতে বাড়তি চিনি যোগ করা হয়েছে কি না।

ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক

সবসময় ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকের প্রয়োজন হয় না। তবে দীর্ঘসময় বা উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করলে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে সোডিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। তখন শুধু পানি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

সোডিয়াম ও গ্লুকোজযুক্ত কিছু ইলেকট্রোলাইট পানীয় শরীরে তরল শোষণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম, প্রচণ্ড গরমে শারীরিক পরিশ্রম কিংবা অতিরিক্ত ঘামের পরিস্থিতিতে এগুলো বেশি কার্যকর হতে পারে।

তবে সাধারণ দিনে বসে থাকা বা স্বল্প সময়ের হালকা ব্যায়ামের পর অকারণে ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক পান করার প্রয়োজন নেই। অনেক পণ্যে বাড়তি চিনি ও ক্যালোরিও থাকতে পারে।

আরও পড়ুন  গরম পানিতে লেবু খেলে সত্যিই কী হয়? জানুন বাস্তবতা

পানির বিকল্প নয়

এই চারটি পানীয় কিছু পরিস্থিতিতে পানির তুলনায় বেশি সময় শরীরে তরল ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু তার মানে পানি বাদ দিতে হবে না। বরং হাইড্রেটিং পানীয় হিসেবে এগুলোকে পানির পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে রাখা যায়।

শুধু পানীয় নয়, খাবার থেকেও শরীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি পায়। শসা, তরমুজ, কমলা ও অন্যান্য পানি-সমৃদ্ধ ফল ও সবজি দৈনিক তরলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।

চা ও স্পার্কলিং ওয়াটারও দৈনিক তরল গ্রহণের অংশ হতে পারে। তবে চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত পানীয়কে স্বাস্থ্যকর হাইড্রেশনের সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া ঠিক নয়।

সবশেষে বলা যায়, প্রতিদিনের জন্য সাধারণ পানি এখনও সবচেয়ে ভালো পছন্দ। তবে ব্যায়াম, অতিরিক্ত ঘাম বা পুষ্টির অতিরিক্ত প্রয়োজনের মতো পরিস্থিতিতে দুধ, ১০০ শতাংশ কমলার জুস বা উপযুক্ত ইলেকট্রোলাইট পানীয় রুটিনে বৈচিত্র্য আনতে পারে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত পানি বাদ দেওয়া নয়, বরং প্রয়োজন বুঝে সঠিক তরল বেছে নেওয়া।